ঢাকা ০২:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

কুয়াকাটায় জমি বিরোধ, সংঘর্ষে দুই পরিবারে আহত ১০

কলাপাড়া প্রতিনিধি।।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার তুলাতলী এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। সংঘর্ষে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৯ মে) সকাল ১০টার দিকে তুলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বাদশা ফরাজির বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাদশা ফরাজি ও আব্দুল কুদ্দুস ফরাজির পরিবারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সকালে বাদশা ফরাজির পরিবারের সদস্যরা বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে কুদ্দুস ফরাজির পক্ষের লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে হামলা চালায়।

এ সময় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালানো হামলায় বাদশা ফরাজি, বাদল ফরাজি, বকুল বেগম, রাসেল, মানসুরা বেগম, কোহিনুর বেগম, মিলন, রুহুল আমিন, ইয়াকুব ও লাইলী বেগম আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর অবস্থায় ৭ জনকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়।

কুয়াকাটা হাসপাতালের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ জানান, “আহতদের মধ্যে ৭ জনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।”

সংঘর্ষের সময় বাদশা ফরাজির পরিবারের দুটি বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বাদশা ফরাজি অভিযোগ করে বলেন, “৫ তারিখ রাতে আমাদের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। আজ সকালে ঘর তুলতে গেলে কুদ্দুস ফরাজির লোকজন হামলা চালায়।”

অন্যদিকে, আব্দুল কুদ্দুস ফরাজি দাবি করেন, “প্রতিপক্ষ জাল কাগজ দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করে ঘর নির্মাণ করছিল। ৫ তারিখে সেই ঘর আমি ভেঙে দিই। আজ তারা আবার ঘর তুলতে গেলে বাঁধা দিলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।”

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, “৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

কুয়াকাটায় জমি বিরোধ, সংঘর্ষে দুই পরিবারে আহত ১০

Update Time : ০৮:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মে ২০২৫

কলাপাড়া প্রতিনিধি।।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটার তুলাতলী এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জনের অবস্থা গুরুতর। সংঘর্ষে লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৯ মে) সকাল ১০টার দিকে তুলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে বাদশা ফরাজির বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাদশা ফরাজি ও আব্দুল কুদ্দুস ফরাজির পরিবারের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সকালে বাদশা ফরাজির পরিবারের সদস্যরা বিরোধপূর্ণ জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে কুদ্দুস ফরাজির পক্ষের লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে হামলা চালায়।

এ সময় লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে চালানো হামলায় বাদশা ফরাজি, বাদল ফরাজি, বকুল বেগম, রাসেল, মানসুরা বেগম, কোহিনুর বেগম, মিলন, রুহুল আমিন, ইয়াকুব ও লাইলী বেগম আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর অবস্থায় ৭ জনকে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়।

কুয়াকাটা হাসপাতালের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ জানান, “আহতদের মধ্যে ৭ জনের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।”

সংঘর্ষের সময় বাদশা ফরাজির পরিবারের দুটি বসতঘর ভাঙচুরের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বাদশা ফরাজি অভিযোগ করে বলেন, “৫ তারিখ রাতে আমাদের ঘর ভেঙে দেওয়া হয়। আজ সকালে ঘর তুলতে গেলে কুদ্দুস ফরাজির লোকজন হামলা চালায়।”

অন্যদিকে, আব্দুল কুদ্দুস ফরাজি দাবি করেন, “প্রতিপক্ষ জাল কাগজ দেখিয়ে জমির মালিকানা দাবি করে ঘর নির্মাণ করছিল। ৫ তারিখে সেই ঘর আমি ভেঙে দিই। আজ তারা আবার ঘর তুলতে গেলে বাঁধা দিলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।”

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, “৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


 

প্রিন্ট করুন :