ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সাড়ে আট কিলোমিটার সড়কের পিচের ঢালাই হাতের খোঁচাতেই উঠে যাচ্ছে। এতে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে কাজের সাব-কন্ট্রাক্টর মোঃ বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড থেকে ধলডাঙ্গা ঘাটপার পর্যন্ত ৮.৫ কিলোমিটার রাস্তা উন্নয়নের জন্য ১৭ কোটি ৭৭ লাখ ৫৫ হাজার ২২৮ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে প্রায় ১৬০০ মিটার রাস্তা আরসিসি এবং বাকিটা কার্পেটিং করার কথা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কুড়িগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আরএবি-আরসি-বিসি-এইচটি জেভি, আর অর্থায়ন করেছে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (ADB)।
প্রকল্পের কাজ শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল ৫ জানুয়ারি ২০২৪ এবং নির্ধারিত শেষ সময় ৩০ জুন ২০২৫। তবে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি সাব-কন্ট্রাক্টে দিয়ে দেয় স্থানীয় বেলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে।
সড়কটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হলেও কোথাও কোথাও রাস্তার পিচ হাত দিয়ে ঘষলেই উঠে যাচ্ছে। কিছু এলাকায় ধুলাবালির ওপরই পিচ ঢালাই করা হয়েছে এবং কম্প্রেসার দিয়ে সড়ক পরিষ্কার না করে ঢালাই দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রাস্তার পিচে পায়ে লেগে যাচ্ছে, যানবাহনের চাকা বসে যাচ্ছে এবং সাধারণ পথচারীরাও অনায়াসে পিচ তুলে ফেলতে পারছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যখন উন্নত সড়ক পেলাম, তখন দেখা গেল কাজ হয়েছে নিম্নমানের। বিটুমিন, ইট, পাথর—সবকিছুতেই অনিয়ম হয়েছে।” এমনকি কাজ চলাকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হলে স্থানীয়রা ক্ষোভে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন।
এ বিষয়ে সাব-কন্ট্রাক্টর মোঃ বেলাল হোসেন দাবি করেন, “পিচ ঢালাইয়ের সময় বিটুমিন ভালোভাবে জমাট না বাধায় কিছু জায়গায় সমস্যা হয়েছে। এখন সেগুলো ঠিক করা হচ্ছে।”
তবে উপজেলা প্রকৌশলী ইনছাফুল হক সরকার বলেন, “আমরা এখনো কোনো বড় ধরনের অনিয়ম পাইনি। কিছু জায়গায় ফাটল দেখা দেওয়ায় ঠিকাদারকে তা ঠিক করতে বলা হয়েছে।”
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দাবি করেছেন, সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে এভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। তারা যথাযথ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















