ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

জেলে থাকা ছেলেকে ফিরে পেতে অসহায় মায়ের আকুতি, প্রার্থনায় দিন কাটে

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক অসহায় মায়ের দিন কাটছে কান্না আর অপেক্ষায়। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় ফেরি ফেরি করে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ফিরোজা বেগম (৬৫)। তার একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান সোহাগ প্যাদা (৩৫) এখন ঢাকার কাসিমপুর কারাগারে বন্দী।

ঘটনাটি গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের। বৃদ্ধা ফিরোজা বেগম স্থানীয়ভাবে গাজী কালু দরবারের খাদেম ও ভক্ত হিসেবেও পরিচিত। তার স্বামী হানিফ প্যাদা বহুদিন ধরে বাতজনিত রোগে ভুগছেন এবং কর্মক্ষম নন। পরিবারটি বসবাস করে একটি পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে, যা বর্ষার সময় পানিতে একেবারে ডুবে যায়।

ফিরোজা বেগম বলেন, “আমার ছেলে নারায়ণগঞ্জে গিয়েছিল জীবিকার সন্ধানে। ময়লার গাড়ি চালিয়ে কোনো মতে সংসার চালাত। একদিন তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর সে মাথায় লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত হয়। পরে স্ত্রীর সাজানো ফাঁদে পড়ে পুলিশে ধরা পড়ে। জামার পকেটে নেশার জিনিস ঢুকিয়ে দেয়।”

বর্তমানে তার ছেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। ফিরোজা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার ছেলে থাকলে এত কষ্টে থাকতাম না। মাঝে মাঝে যে টাকাটা পাঠাত, তা দিয়েই চলতাম। এখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে। গাজী কালুর দরবারে খেদমত করি। যেদিন খাবার পাই সেদিন খাই, না হলে অনাহারে থাকি।”

তার স্বামী হানিফ প্যাদা বলেন, “ছেলে অনেক সাহায্য করত। এখন সে জেলে, আমরা না খেয়ে থাকি। আমার চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে গেছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার মিয়া বলেন, “ফিরোজা বেগমের পরিবারটি সত্যিই খুবই অসহায়। ঘর নেই, জায়গা নেই, থাকার মতো মজবুত কিছুও নেই। ছেলে জেলে যাওয়ার পর তারা আরও বেশি দুর্দশায় পড়েছে।”

একজন অসহায় মা এখন প্রশাসনের কাছে ছেলের মুক্তির আকুতি জানাচ্ছেন। সমাজের ও প্রশাসনের দৃষ্টি ফেরানোই এখন তার একমাত্র ভরসা।


 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

জেলে থাকা ছেলেকে ফিরে পেতে অসহায় মায়ের আকুতি, প্রার্থনায় দিন কাটে

Update Time : ০৯:৪০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় এক অসহায় মায়ের দিন কাটছে কান্না আর অপেক্ষায়। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় ফেরি ফেরি করে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন ফিরোজা বেগম (৬৫)। তার একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান সোহাগ প্যাদা (৩৫) এখন ঢাকার কাসিমপুর কারাগারে বন্দী।

ঘটনাটি গলাচিপা সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের। বৃদ্ধা ফিরোজা বেগম স্থানীয়ভাবে গাজী কালু দরবারের খাদেম ও ভক্ত হিসেবেও পরিচিত। তার স্বামী হানিফ প্যাদা বহুদিন ধরে বাতজনিত রোগে ভুগছেন এবং কর্মক্ষম নন। পরিবারটি বসবাস করে একটি পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে, যা বর্ষার সময় পানিতে একেবারে ডুবে যায়।

ফিরোজা বেগম বলেন, “আমার ছেলে নারায়ণগঞ্জে গিয়েছিল জীবিকার সন্ধানে। ময়লার গাড়ি চালিয়ে কোনো মতে সংসার চালাত। একদিন তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়ার পর সে মাথায় লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত হয়। পরে স্ত্রীর সাজানো ফাঁদে পড়ে পুলিশে ধরা পড়ে। জামার পকেটে নেশার জিনিস ঢুকিয়ে দেয়।”

বর্তমানে তার ছেলে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছে। ফিরোজা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার ছেলে থাকলে এত কষ্টে থাকতাম না। মাঝে মাঝে যে টাকাটা পাঠাত, তা দিয়েই চলতাম। এখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে। গাজী কালুর দরবারে খেদমত করি। যেদিন খাবার পাই সেদিন খাই, না হলে অনাহারে থাকি।”

তার স্বামী হানিফ প্যাদা বলেন, “ছেলে অনেক সাহায্য করত। এখন সে জেলে, আমরা না খেয়ে থাকি। আমার চিকিৎসাও বন্ধ হয়ে গেছে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য আনোয়ার মিয়া বলেন, “ফিরোজা বেগমের পরিবারটি সত্যিই খুবই অসহায়। ঘর নেই, জায়গা নেই, থাকার মতো মজবুত কিছুও নেই। ছেলে জেলে যাওয়ার পর তারা আরও বেশি দুর্দশায় পড়েছে।”

একজন অসহায় মা এখন প্রশাসনের কাছে ছেলের মুক্তির আকুতি জানাচ্ছেন। সমাজের ও প্রশাসনের দৃষ্টি ফেরানোই এখন তার একমাত্র ভরসা।


 

প্রিন্ট করুন :