সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুই সন্তানের জননী জেবা খলিফা আজ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। জন্মের পর থেকেই সরকারি খাস জমির উপর নির্মিত ছোট একটি ঘরে বসবাস করে আসছেন তিনি। এখন সেই জায়গার মালিকানা (ডিসিআর) না পাওয়ায় পথে বসার শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এই অসহায় নারী।
জানা গেছে, জেবা খলিফা (৩২) গলাচিপা সদর রোডের উত্তর পাশে পৌর হোল্ডিং নং ৫৫৮-এর ঠিকানায় দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে বসবাস করছেন। তার বাবা আব্দুল বারী খলিফা জীবিত অবস্থায় প্রায় আড়াই শতক জমির উপর তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেন। বাবার মৃত্যুর পর স্বামী ও সন্তানসহ এখানেই পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন জেবা।
জেবা জানান, “আমার বাবা আমাদের এখানে রেখে গেছেন। আমি স্বামীর কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে এই ঘর করেছি। এখন কেউ কেউ অফিসে ভুল তথ্য দিয়ে আমার ডিসিআর আটকে দিচ্ছে। আমি গরিব মানুষ, টাকা নেই। দুই সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। জমির ডিসিআর না পেলে রাস্তায় বসে যেতে হবে।”
জমির বৈধতা প্রাপ্তির লক্ষ্যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছেন। অল্প অল্প করে সঞ্চিত টাকা জমিয়ে ডিসিআর করার প্রস্তুতিও নিয়েছেন। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহলের অপতৎপরতায় তা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সুশীল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “জেবা খলিফা সত্যিই একজন অসহায় নারী। তার বাবা জীবিত থাকাকালীন সময় থেকেই সে এই জায়গায় বসবাস করছে।”
গলাচিপা সদর ভূমি অফিসের তহশিলদার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ বিষয়ে প্রতিবেদন শীঘ্রই পাঠানো হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, “সরকারি জায়গায় যারা প্রকৃতভাবে বসবাস করছেন, তারাই এর দাবিদার। বিষয়টি শুনলাম, যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এখন দেখা যাক, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবিক বিবেচনায় অসহায় এই নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে তার দীর্ঘদিনের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করে কিনা।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 
























