ঢাকা, ২৯ এপ্রিল:
এপ্রিলের শেষ প্রান্তে এসে ঢাকা শহর যেন পরিণত হয়েছে এক রঙিন ক্যানভাসে। কৃষ্ণচূড়ার টকটকে লাল, জারুলের হালকা বেগুনি আর সোনালুর ঝরনা-সোনালি ফুলের ঢেউ—এই ত্রয়ীর সমারোহে নগর জীবনের ক্লান্ত রাস্তাগুলো আজ যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে।
ব্যস্ত ও যান্ত্রিক এই মহানগরী বছরের বেশিরভাগ সময় থাকে ধুলা, ধোঁয়া আর কোলাহলে মোড়া। কিন্তু গ্রীষ্মের মাঝপথে প্রকৃতি যেন নিজ হাতে শহরের হৃদয়ে এক নরম, স্নিগ্ধ পরশ ছড়িয়ে দেয়। রাজপথের পাশে কৃষ্ণচূড়ার বিস্ফোরণ যেন বলে ওঠে—ঢাকাও ভালোবাসতে জানে।
শাহবাগ, ধানমন্ডি লেক, গুলশান-বনানী কিংবা পুরান ঢাকার অলিগলি—প্রতিটি পথ যেন ফুলের আলপনায় সেজে উঠেছে। পথচারীরা হঠাৎ থেমে দাঁড়াচ্ছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা শুধু নিরবে তাকিয়ে থাকছেন—যেন প্রকৃতির এ সৌন্দর্য তাঁদের হৃদয়ের গভীরে নেমে যাচ্ছে।
সাহিত্যিক আবহে সোনালু নিয়ে কেউ কেউ বলছেন, “এটা যেন গ্রীষ্মের হলুদ মধু”। আর জারুল? তার বেগুনি ছায়া শহরের কোলাহলের মাঝে তৈরি করে এক স্বপ্নিল প্রশান্তি।
পরিবেশবিদরা বলছেন, এই গাছগুলো শুধু সৌন্দর্যই নয়, শহরের পরিবেশ ভারসাম্যেও রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ছায়া দেয়, বায়ু পরিশোধন করে, আর নাগরিকদের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা তৈরি করে।
এ যেন প্রমাণ করে, ঢাকা শহর শুধুই ইট-পাথরের নয়—এ শহর ভালোবাসা জানে, রঙ বোঝে, আর প্রকৃতির সঙ্গে মেলবন্ধনে বিশ্বাস রাখে।
লেখক – মো. রিয়াজুল ইসলাম, শিক্ষক।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 


























