ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

৩০ বছরেও মেলেনি খাসজমির বন্দোবস্ত চরে দখল ও মামলা-হামলার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৩ Time View

গলাচিপা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বাংলায় খাসজমির বন্দোবস্ত নিয়ে বিরোধের অবসান হচ্ছে না তিন দশকেও। দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসা ভূমিহীন পরিবারগুলোর অনেকেরই জমির স্থায়ী অধিকার নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎জমির দখল ও বন্দোবস্ত নিয়ে বিরোধ, ফসল কেটে নেওয়ার অভিযোগ, মামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন সেখানকার কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, খাসজমির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করে আইন অনুযায়ী ভূমিহীনদের অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চর বাংলায় বসতি গড়ে ওঠা এবং কৃষিকাজ সম্প্রসারিত হওয়ার পর থেকেই খাসজমির বন্দোবস্ত ও দখল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে বিরোধ আরও বেড়েছে।
‎
‎একই জমির ওপর একাধিক পক্ষের দাবি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ এবং বন্দোবস্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমি চাষ করেও ফসলের নিরাপত্তা ও জমির অধিকার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে কৃষকদের।
‎
‎ভূমিহীনদের অভিযোগ, জমির বন্দোবস্ত পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়া, একই জমি নিয়ে একাধিক পক্ষের দাবি তৈরি করা এবং বিভিন্ন কাগজপত্রের ভিত্তিতে জমির দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টার সঙ্গে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র জড়িত।
‎
‎তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
‎
‎স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে ধান লাগানোর পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের লোকজন দলবল নিয়ে এসে ফসল কেটে নিয়ে যায়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। জমির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি অফিস, থানা ও আদালতে যেতে গিয়ে অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে তাঁদের।
‎
‎এতে একদিকে যেমন কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কৃষিকাজ।
‎অধিকার আদায়ে আন্দোলন, সংবাদ সম্মেলন
‎খাসজমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করেছেন চর বাংলার বাসিন্দারা।
‎
‎২০২৩ সালের ২১ জুন এ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় প্রকাশিত সংবাদে প্রায় ৩২০টি ভূমিহীন পরিবারের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে একই দাবি জানানো হয়।
‎
‎দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও দাবি জানানোর পরও বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় হতাশা রয়েছে স্থানীয় ভূমিহীন পরিবারগুলোর মধ্যে।
‎
‎তাঁদের প্রশ্ন, প্রকৃত ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দযোগ্য খাসজমির বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে এত দীর্ঘ সময় লাগছে কেন? জমির নথি ও দখলের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
‎
‎জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে চর বাংলায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর খাসজমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২৪ জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
‎
‎প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, জমির ইজারা ও চাষাবাদের অধিকার নিয়ে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ ঘটে। এ ধরনের ঘটনা জমির বিরোধ নিষ্পত্তিতে কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে এনেছে।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, চর বাংলার খাসজমি নিয়ে বিরোধ নিরসনে প্রথমেই প্রয়োজন জমির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ। কোন দাগে কতটুকু খাসজমি রয়েছে, কোন জমি কাকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে, বন্দোবস্তের নথি বৈধ কি না এবং বর্তমানে জমির দখলে কারা রয়েছেন—এসব বিষয় সমন্বিতভাবে যাচাই করা দরকার। পাশাপাশি একই জমির ওপর একাধিক পক্ষের দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
‎
‎ভূমিহীনদের দাবি, দাগ ও খতিয়ান অনুযায়ী জমির পূর্ণাঙ্গ জরিপ করতে হবে। প্রকৃত ভূমিহীনদের যোগ্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী খাসজমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জমি দখল, ফসল কেটে নেওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
‎
‎স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় কৃষকেরা
‎চর বাংলার খাসজমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ কেবল জমির মালিকানা বা দখলের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু পরিবারের জীবিকা, কৃষি উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। জমিতে শ্রম দিয়ে ফসল ফলানোর পরও তা নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কা কৃষকদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‎
‎এ অবস্থায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ভূমি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। জমির নথিপত্র স্বচ্ছভাবে যাচাই, প্রয়োজনে পুনরায় জরিপ, বিরোধের আইনসম্মত নিষ্পত্তি এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‎
‎তাঁদের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে জমি নিয়ে বিরোধ কমবে, কৃষকেরা নিরাপদে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং চর বাংলার ভূমিহীন পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটবে।
‎

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

৩০ বছরেও মেলেনি খাসজমির বন্দোবস্ত চরে দখল ও মামলা-হামলার অভিযোগ

Update Time : ১১:২৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

গলাচিপা প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বাংলায় খাসজমির বন্দোবস্ত নিয়ে বিরোধের অবসান হচ্ছে না তিন দশকেও। দীর্ঘদিন ধরে জমিতে বসবাস ও চাষাবাদ করে আসা ভূমিহীন পরিবারগুলোর অনেকেরই জমির স্থায়ী অধিকার নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎জমির দখল ও বন্দোবস্ত নিয়ে বিরোধ, ফসল কেটে নেওয়ার অভিযোগ, মামলা এবং সংঘর্ষের ঘটনায় অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন সেখানকার কৃষকেরা। তাঁদের দাবি, খাসজমির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করে আইন অনুযায়ী ভূমিহীনদের অধিকার নিশ্চিত করা হোক।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, চর বাংলায় বসতি গড়ে ওঠা এবং কৃষিকাজ সম্প্রসারিত হওয়ার পর থেকেই খাসজমির বন্দোবস্ত ও দখল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে বিরোধ আরও বেড়েছে।
‎
‎একই জমির ওপর একাধিক পক্ষের দাবি, জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ এবং বন্দোবস্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে জমি চাষ করেও ফসলের নিরাপত্তা ও জমির অধিকার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে কৃষকদের।
‎
‎ভূমিহীনদের অভিযোগ, জমির বন্দোবস্ত পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়া, একই জমি নিয়ে একাধিক পক্ষের দাবি তৈরি করা এবং বিভিন্ন কাগজপত্রের ভিত্তিতে জমির দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টার সঙ্গে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র জড়িত।
‎
‎তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
‎
‎স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে ধান লাগানোর পর কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের লোকজন দলবল নিয়ে এসে ফসল কেটে নিয়ে যায়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। জমির অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমি অফিস, থানা ও আদালতে যেতে গিয়ে অর্থ ও সময় ব্যয় হচ্ছে তাঁদের।
‎
‎এতে একদিকে যেমন কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক কৃষিকাজ।
‎অধিকার আদায়ে আন্দোলন, সংবাদ সম্মেলন
‎খাসজমি প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন ও কর্মসূচি পালন করেছেন চর বাংলার বাসিন্দারা।
‎
‎২০২৩ সালের ২১ জুন এ দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় প্রকাশিত সংবাদে প্রায় ৩২০টি ভূমিহীন পরিবারের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে, ২০২৪ সালের ৯ জুলাই পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে একই দাবি জানানো হয়।
‎
‎দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন ও দাবি জানানোর পরও বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় হতাশা রয়েছে স্থানীয় ভূমিহীন পরিবারগুলোর মধ্যে।
‎
‎তাঁদের প্রশ্ন, প্রকৃত ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দযোগ্য খাসজমির বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিতে এত দীর্ঘ সময় লাগছে কেন? জমির নথি ও দখলের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাঁদের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
‎
‎জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে চর বাংলায় সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর খাসজমির দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২৪ জন আহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
‎
‎প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, জমির ইজারা ও চাষাবাদের অধিকার নিয়ে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ ঘটে। এ ধরনের ঘটনা জমির বিরোধ নিষ্পত্তিতে কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাকে আরও সামনে এনেছে।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, চর বাংলার খাসজমি নিয়ে বিরোধ নিরসনে প্রথমেই প্রয়োজন জমির প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ। কোন দাগে কতটুকু খাসজমি রয়েছে, কোন জমি কাকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে, বন্দোবস্তের নথি বৈধ কি না এবং বর্তমানে জমির দখলে কারা রয়েছেন—এসব বিষয় সমন্বিতভাবে যাচাই করা দরকার। পাশাপাশি একই জমির ওপর একাধিক পক্ষের দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট নথি ও আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
‎
‎ভূমিহীনদের দাবি, দাগ ও খতিয়ান অনুযায়ী জমির পূর্ণাঙ্গ জরিপ করতে হবে। প্রকৃত ভূমিহীনদের যোগ্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী খাসজমি বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে জমি দখল, ফসল কেটে নেওয়া এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
‎
‎স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় কৃষকেরা
‎চর বাংলার খাসজমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ কেবল জমির মালিকানা বা দখলের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু পরিবারের জীবিকা, কৃষি উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা। জমিতে শ্রম দিয়ে ফসল ফলানোর পরও তা নির্বিঘ্নে ঘরে তুলতে না পারার আশঙ্কা কৃষকদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
‎
‎এ অবস্থায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ভূমি বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। জমির নথিপত্র স্বচ্ছভাবে যাচাই, প্রয়োজনে পুনরায় জরিপ, বিরোধের আইনসম্মত নিষ্পত্তি এবং প্রকৃত ভূমিহীনদের অধিকার সুরক্ষার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
‎
‎তাঁদের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে জমি নিয়ে বিরোধ কমবে, কৃষকেরা নিরাপদে চাষাবাদ করতে পারবেন এবং চর বাংলার ভূমিহীন পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটবে।
‎

প্রিন্ট করুন :