ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

গোয়াইনঘাটে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলায় আসামীর মৃত্যুদণ্ড, দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৮ Time View

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাটে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আবদুল্লাহ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ সাড়ে চার বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে ঘোষিত এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বাবা রফিকুল ইসলাম। একই সঙ্গে সব আদালতের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম।

মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২২ সালে তাঁর প্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর প্রথমে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সাড়ে চার বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন। এ রায়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি চাই, সব আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে এ রায় কার্যকর করা হোক। আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তার বিচার পেয়েছি। এখন রায় দ্রুত কার্যকর হলে ন্যায়বিচারের পূর্ণ প্রতিফলন দেখতে পাব। এমন দৃষ্টান্ত তৈরি হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ কোনো শিশু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ই মার্চ গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের বগাইয়া হাওর গ্রামের একটি বাড়িতে মর্জিনা আক্তার (১৪) নামে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে একা পেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আবদুল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন। মামলায় আবদুল্লাহ মিয়া ছিলেন একমাত্র আসামি।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি আবদুল্লাহ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

রায়ের আদেশ অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মামলার নথি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান রয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল্লাহ মিয়া গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের বগাইয়া হাওর গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের প্রত্যাশা, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘোষিত এ রায়ের পর প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং আইন অনুযায়ী রায় কার্যকরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

গোয়াইনঘাটে প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলায় আসামীর মৃত্যুদণ্ড, দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি পরিবারের

Update Time : ০৪:৫৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাটে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আবদুল্লাহ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ সাড়ে চার বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে ঘোষিত এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বাবা রফিকুল ইসলাম। একই সঙ্গে সব আদালতের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক রুবাইয়া ইয়াসমিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম।

মামলার বাদী রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০২২ সালে তাঁর প্রতিবন্ধী কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর প্রথমে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলে।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সাড়ে চার বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আদালত ন্যায়বিচার করেছেন। এ রায়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি চাই, সব আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে এ রায় কার্যকর করা হোক। আমার মেয়ের সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে, তার বিচার পেয়েছি। এখন রায় দ্রুত কার্যকর হলে ন্যায়বিচারের পূর্ণ প্রতিফলন দেখতে পাব। এমন দৃষ্টান্ত তৈরি হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ কোনো শিশু বা প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ওপর এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৩ই মার্চ গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের বগাইয়া হাওর গ্রামের একটি বাড়িতে মর্জিনা আক্তার (১৪) নামে এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে একা পেয়ে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে আবদুল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা করেন। মামলায় আবদুল্লাহ মিয়া ছিলেন একমাত্র আসামি।

দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামি আবদুল্লাহ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

রায়ের আদেশ অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য মামলার নথি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিধান রয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুল্লাহ মিয়া গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নের বগাইয়া হাওর গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর পরিবারের প্রত্যাশা, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঘোষিত এ রায়ের পর প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন হবে এবং আইন অনুযায়ী রায় কার্যকরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।

প্রিন্ট করুন :