ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

বরগুনায় ব্যাগে বন্দি নবজাতক, মায়ের কোলে ওঠার আগেই পিঁপড়ার যন্ত্রণা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৮১ Time View

মোঃ শাহজালাল

বরগুনা প্রতিনিধি: মায়ের কোলে মাথা রেখে পৃথিবীকে চেনার কথা ছিল তার। মায়ের বুকের উষ্ণতায় ঘুমিয়ে পড়ার কথা ছিল। বরগুনার বামনায় জন্মের পরপরই সেই নিষ্পাপ শিশুটিকে ভরে রাখা হলো একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে। ফেলে রাখা হলো নির্জন স্থানে। তখনও কাটেনি নাড়ি। ছোট্ট শরীরজুড়ে ছিল অসংখ্য পিঁপড়া। আর সেই অসহায় শিশুটি শুধু কাঁদছিল—হয়তো বাঁচার জন্য, হয়তো একটু মায়ের মমতার জন্য।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামে ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সামনে ফজলুর দোকানের পেছনে নারিকেলগাছের পাশ থেকে জীবিত অবস্থায় ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় দোকানদার বাবুল শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে তিনি স্থানীয় যুবক তারিফ হাওলাদারকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তারিফ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগের ভেতর শিশুটিকে দেখতে পান। ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত কামরুজ্জামানসহ স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যাগ খুলে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

ব্যাগ থেকে শিশুটিকে বের করার পর দেখা যায়, তার নাড়ি তখনো কাটা হয়নি। নাভির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল নাড়ি, আর শরীরজুড়ে অসংখ্য পিঁপড়া। দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত অনেকেই শিউরে ওঠেন।

শিশুটিকে দ্রুত বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। চিকিৎসক জানান, শিশুটি মোটামুটি সুস্থ রয়েছে।

তবে শিশুটির জীবনে সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন উদ্ধারকারী তারিফ হাওলাদার। তিনি বলেন, “শিশুটিকে এ অবস্থায় দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি তাকে নিজের বোনের মতো স্নেহ-মমতায় মানুষ করতে চাই।

একদিকে জন্মদাতা মা-বাবার পরিচয় এখনো অজানা, অন্যদিকে অপরিচিত এক মানুষের হৃদয়ে জন্ম নিয়েছে শিশুটির জন্য মায়া। পৃথিবীতে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যে শিশু আপনজন হারানোর নির্মমতা দেখেছে, তার ভাগ্যে এখন যেন অন্তত ভালোবাসার আলো জ্বলে—এটাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

শিশুটিকে কে বা কারা এভাবে ফেলে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন, শিশুটির পরিচয় শনাক্ত এবং তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মায়ের বুকের উষ্ণতা পাওয়ার বয়সে একটি শিশুকে পাওয়া গেল পিঁপড়ায় ঢাকা ব্যাগের ভেতর—এই দৃশ্য শুধু একটি শিশুর পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনা নয়, এটি আমাদের বিবেকের কাছেও এক নির্মম প্রশ্ন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

বরগুনায় ব্যাগে বন্দি নবজাতক, মায়ের কোলে ওঠার আগেই পিঁপড়ার যন্ত্রণা

Update Time : ০৪:৫২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ শাহজালাল

বরগুনা প্রতিনিধি: মায়ের কোলে মাথা রেখে পৃথিবীকে চেনার কথা ছিল তার। মায়ের বুকের উষ্ণতায় ঘুমিয়ে পড়ার কথা ছিল। বরগুনার বামনায় জন্মের পরপরই সেই নিষ্পাপ শিশুটিকে ভরে রাখা হলো একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে। ফেলে রাখা হলো নির্জন স্থানে। তখনও কাটেনি নাড়ি। ছোট্ট শরীরজুড়ে ছিল অসংখ্য পিঁপড়া। আর সেই অসহায় শিশুটি শুধু কাঁদছিল—হয়তো বাঁচার জন্য, হয়তো একটু মায়ের মমতার জন্য।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বামনা উপজেলার সোনাখালী গ্রামে ফায়ার সার্ভিস ইউনিটের সামনে ফজলুর দোকানের পেছনে নারিকেলগাছের পাশ থেকে জীবিত অবস্থায় ওই নবজাতককে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় দোকানদার বাবুল শিশুটির কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে তিনি স্থানীয় যুবক তারিফ হাওলাদারকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তারিফ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাগের ভেতর শিশুটিকে দেখতে পান। ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত কামরুজ্জামানসহ স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যাগ খুলে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

ব্যাগ থেকে শিশুটিকে বের করার পর দেখা যায়, তার নাড়ি তখনো কাটা হয়নি। নাভির সঙ্গে সংযুক্ত ছিল নাড়ি, আর শরীরজুড়ে অসংখ্য পিঁপড়া। দৃশ্যটি দেখে উপস্থিত অনেকেই শিউরে ওঠেন।

শিশুটিকে দ্রুত বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তার নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। চিকিৎসক জানান, শিশুটি মোটামুটি সুস্থ রয়েছে।

তবে শিশুটির জীবনে সবচেয়ে বড় আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন উদ্ধারকারী তারিফ হাওলাদার। তিনি বলেন, “শিশুটিকে এ অবস্থায় দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। আমি তাকে নিজের বোনের মতো স্নেহ-মমতায় মানুষ করতে চাই।

একদিকে জন্মদাতা মা-বাবার পরিচয় এখনো অজানা, অন্যদিকে অপরিচিত এক মানুষের হৃদয়ে জন্ম নিয়েছে শিশুটির জন্য মায়া। পৃথিবীতে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই যে শিশু আপনজন হারানোর নির্মমতা দেখেছে, তার ভাগ্যে এখন যেন অন্তত ভালোবাসার আলো জ্বলে—এটাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

শিশুটিকে কে বা কারা এভাবে ফেলে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন, শিশুটির পরিচয় শনাক্ত এবং তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

মায়ের বুকের উষ্ণতা পাওয়ার বয়সে একটি শিশুকে পাওয়া গেল পিঁপড়ায় ঢাকা ব্যাগের ভেতর—এই দৃশ্য শুধু একটি শিশুর পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনা নয়, এটি আমাদের বিবেকের কাছেও এক নির্মম প্রশ্ন।

প্রিন্ট করুন :