ঢাকা ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪ পবিপ্রবিতে ছাত্রদলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি দুমকি পীরতলা বাজার থেকে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ দুমকীতে ইউপি সদস্য আটকের ঘটনায় নতুন মোড়, আয়েশার স্বজনদেরও মানববন্ধন পবিপ্রবি প্রো-ভিসির নেতৃত্বে কুয়াকাটায় ওশানোগ্রাফি অনুষদের ভূমি পরিদর্শন ‎ ‎ দুমকীতে মাহিন্দ্রা চালককে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ‎আংগারিয়া ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে খোকন মৃধা’র মতবিনিময় সভা

কলকাতার হোটেলের আগুনে আ’লীগ নেতা সাজুসহ সাতক্ষীরার ২ জন নিহত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র-যুবলীগ নেতা মো. আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫)। নিহত অপরজন একই উপজেলার বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে রেবতী সরকারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে সাজুর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর খালাতো ভাই অ্যাডভোকেট তানভীর আহমেদও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরদার বাড়ি পরিবারের সদস্য। তিনি পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোমরের ব্যথার চিকিৎসা করাতে প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন সাজু। বুধবার তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে সাজু গুরুতর দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু বলেন, কোমরের ব্যথার চিকিৎসার জন্য কয়েক দিন আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার তার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু রাতে খবর আসে, হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সে মারা গেছে।

প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, সাজু এলাকায় সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রায় সাত-আট বছর আগে হজ করে দেশে ফেরার পর তিনি আর বিয়ে করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে সেভাবেই জীবনযাপন করছিলেন।

হাফিজুর রহমান বলেন, এক বছর আগে সাজুর মা মারা গেছেন। তাঁর বাবাও বেঁচে নেই। চার ভাইয়ের মধ্যে সাজু ছিলেন সবার ছোট। মেজো ভাই রাজু সরদারও মারা গেছেন। বর্তমানে বড় ভাই সাহেব সরদার ও সেজো ভাই উজ্জ্বল সরদার জীবিত আছেন। সাজুর মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে কালীগঞ্জ উপজেলার আরেক বাসিন্দা রেবতী সরকারও নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তাঁর বাড়ি উপজেলার কোন ইউনিয়ন বা গ্রামে এবং তিনি কীভাবে কলকাতায় গিয়েছিলেন—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। খবর পাওয়ার পরপরই উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

উপহাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। হোটেলটিতে ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা জানিয়েছে, সাজুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার

কলকাতার হোটেলের আগুনে আ’লীগ নেতা সাজুসহ সাতক্ষীরার ২ জন নিহত

Update Time : ১০:৫২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার দুই বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ছাত্র-যুবলীগ নেতা মো. আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫)। নিহত অপরজন একই উপজেলার বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে রেবতী সরকারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে সাজুর মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাঁর খালাতো ভাই অ্যাডভোকেট তানভীর আহমেদও তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু কালীগঞ্জ উপজেলার তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সরদার বাড়ি পরিবারের সদস্য। তিনি পেশায় ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোমরের ব্যথার চিকিৎসা করাতে প্রায় পাঁচ-ছয় দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন সাজু। বুধবার তাঁর দেশে ফেরার কথা ছিল। এর মধ্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে সাজু গুরুতর দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু বলেন, কোমরের ব্যথার চিকিৎসার জন্য কয়েক দিন আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার তার বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু রাতে খবর আসে, হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে সে মারা গেছে।

প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান হাফিজ বলেন, সাজু এলাকায় সৎ ও ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রায় সাত-আট বছর আগে হজ করে দেশে ফেরার পর তিনি আর বিয়ে করবেন না বলে জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে সেভাবেই জীবনযাপন করছিলেন।

হাফিজুর রহমান বলেন, এক বছর আগে সাজুর মা মারা গেছেন। তাঁর বাবাও বেঁচে নেই। চার ভাইয়ের মধ্যে সাজু ছিলেন সবার ছোট। মেজো ভাই রাজু সরদারও মারা গেছেন। বর্তমানে বড় ভাই সাহেব সরদার ও সেজো ভাই উজ্জ্বল সরদার জীবিত আছেন। সাজুর মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছেন।

এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে কালীগঞ্জ উপজেলার আরেক বাসিন্দা রেবতী সরকারও নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে তাঁর বাড়ি উপজেলার কোন ইউনিয়ন বা গ্রামে এবং তিনি কীভাবে কলকাতায় গিয়েছিলেন—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। খবর পাওয়ার পরপরই উপহাইকমিশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহত ও আহতদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

উপহাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে কলকাতার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। হোটেলটিতে ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা জানিয়েছে, সাজুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হচ্ছে।

প্রিন্ট করুন :