ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

আস্ত খাসি না থাকায় বাগ্‌বিতণ্ডা, বিয়ে না দিয়েই বরপক্ষকে ফেরাল কনের পরিবার

সাউথ বাংলা ডেস্ক রিপোর্টঃ

বিয়ের অনুষ্ঠানে বরপক্ষের জন্য আস্ত খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে বিয়ে ভেঙে গেছে। একপর্যায়ে বরপক্ষকে উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ফেরত পাঠায় কনের পরিবার।

সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বরও ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে আখাউড়ার তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। দুপুরে বরপক্ষের প্রায় ১৫০ জনসহ আত্মীয়স্বজন কনের বাড়িতে যান। সেখানে বরকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

তবে ফুলের তোড়া নিয়ে বর জুনায়েদের অসন্তোষ প্রকাশের পর পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বর, তাঁর ভাই ও চাচার জন্য তিনটি বড় ডালায় বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। সেখানে আস্ত খাসি না থাকায় আপত্তি জানান বর।

এ নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বর তাঁর ভাইকে ‘তুই বিয়ে কর’ বলে মন্তব্য করেন বলে দাবি কনের বাবার। এরপর মেয়েকে জুনায়েদের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরে উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বরপক্ষকে বাড়ি থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়।

কনের বাবা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় বর আপত্তি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। আগে আস্ত খাসির কথা বলা হয়নি বলে তাঁকে জানানো হয়। বিয়ের পরের অনুষ্ঠানে আস্ত খাসি খাওয়ানোর কথাও বলা হয়েছিল। একপর্যায়ে বর তাঁর ভাইকে “তুই বিয়ে কর” বলেন। এরপর আমি এই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

তবে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বর জুনায়েদ মিয়া। মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি অর্থ দাবি করে। তিনি ও তাঁর পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি হয় এবং তাঁদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। ছেলেটি খাবার নিয়ে খারাপ আচরণ ও বেয়াদবি করেছে বলে জানতে পেরেছি। এ কারণে মেয়ের বাবা বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সব জিনিসপত্রসহ বরপক্ষকে চলে যেতে বলা হয়।’

এদিকে বর জুনায়েদের ফেসবুক পোস্টের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, বিয়ের আগে কাবিন ও দেনা-পাওনার বিষয়গুলো সাধারণত দুই পক্ষের মধ্যে নির্ধারিত থাকে। ফলে অনুষ্ঠানের সময় কাবিনের অঙ্ক ১০ গুণ বাড়ানোর দাবির বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ আবার বরপক্ষের আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক মন্তব্যে বলা হয়েছে, বিয়ের আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে মীমাংসা করা উচিত ছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

আস্ত খাসি না থাকায় বাগ্‌বিতণ্ডা, বিয়ে না দিয়েই বরপক্ষকে ফেরাল কনের পরিবার

Update Time : ১০:১৫:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

সাউথ বাংলা ডেস্ক রিপোর্টঃ

বিয়ের অনুষ্ঠানে বরপক্ষের জন্য আস্ত খাসি না থাকাকে কেন্দ্র করে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে বিয়ে ভেঙে গেছে। একপর্যায়ে বরপক্ষকে উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালঙ্কারসহ ফেরত পাঠায় কনের পরিবার।

সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বরও ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে আখাউড়ার তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। দুপুরে বরপক্ষের প্রায় ১৫০ জনসহ আত্মীয়স্বজন কনের বাড়িতে যান। সেখানে বরকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।

তবে ফুলের তোড়া নিয়ে বর জুনায়েদের অসন্তোষ প্রকাশের পর পরিস্থিতিতে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বর, তাঁর ভাই ও চাচার জন্য তিনটি বড় ডালায় বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। সেখানে আস্ত খাসি না থাকায় আপত্তি জানান বর।

এ নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বর তাঁর ভাইকে ‘তুই বিয়ে কর’ বলে মন্তব্য করেন বলে দাবি কনের বাবার। এরপর মেয়েকে জুনায়েদের সঙ্গে বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরে উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বরপক্ষকে বাড়ি থেকে বিদায় করে দেওয়া হয়।

কনের বাবা সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় বর আপত্তি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। আগে আস্ত খাসির কথা বলা হয়নি বলে তাঁকে জানানো হয়। বিয়ের পরের অনুষ্ঠানে আস্ত খাসি খাওয়ানোর কথাও বলা হয়েছিল। একপর্যায়ে বর তাঁর ভাইকে “তুই বিয়ে কর” বলেন। এরপর আমি এই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।’

তবে ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন বর জুনায়েদ মিয়া। মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত কাবিনের চেয়ে ১০ গুণ বেশি অর্থ দাবি করে। তিনি ও তাঁর পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি হয় এবং তাঁদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। ছেলেটি খাবার নিয়ে খারাপ আচরণ ও বেয়াদবি করেছে বলে জানতে পেরেছি। এ কারণে মেয়ের বাবা বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে সব জিনিসপত্রসহ বরপক্ষকে চলে যেতে বলা হয়।’

এদিকে বর জুনায়েদের ফেসবুক পোস্টের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, বিয়ের আগে কাবিন ও দেনা-পাওনার বিষয়গুলো সাধারণত দুই পক্ষের মধ্যে নির্ধারিত থাকে। ফলে অনুষ্ঠানের সময় কাবিনের অঙ্ক ১০ গুণ বাড়ানোর দাবির বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ আবার বরপক্ষের আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক মন্তব্যে বলা হয়েছে, বিয়ের আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে মীমাংসা করা উচিত ছিল।

প্রিন্ট করুন :