নিজস্ব প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের জলিশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার সাড়ে ছয় বছর পার হলেও তা এখনও অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৩ মার্চ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাদিউস জামান স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্রের মাধ্যমে ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পটুয়াখালী টাউন কালিকাপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাসান অ্যান্ড ব্রাদার্স এ কাজের দায়িত্ব পায়। প্রকল্পের টেন্ডার আইডি নম্বর ৩৭০১৫৮।
তবে নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর ভবনের ভিমের ওপর প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ফুট কলাম তোলার পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ আর করেননি।
বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মার্জিয়া তাবাচ্ছুম অনন্যা বলেন, “ভর্তি হওয়ার সময় নতুন ভবনের কাজ শুরু হতে দেখে খুব আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিদ্যালয় থেকে বিদায় নেওয়ার সময়ও নতুন ভবনে ক্লাস করার সুযোগ পাচ্ছি না। ভবন না থাকায় আমাদের শ্রেণি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
কাজ শুরুর সময় দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান জানান, দায়িত্ব পালনকালে তিনি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করেন নাই।
বর্তমান প্রধান শিক্ষক গৌতম হাওলাদার বলেন, “দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে বহুবার যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। ভবন নির্মাণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, নির্মাণকাজের সুবিধার্থে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাড়ে ছয় বছর ধরে সেই কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। অপরদিকে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে বর্ষাকালে স্থানীয়রা মাছ চাষও করছেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শ্রেণিকক্ষ সংকট নিরসনে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “নির্মাণাধীন ভবনের বিষয়টি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত অবহিত নই। খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, পটুয়াখালীর চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল কবির মুঠোফোনে বলেন, “ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার কাজ শেষ করার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। বিধিমোতাবেক পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার প্রক্রিয়া চলছে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















