ঢাকা ১২:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

ঈশ্বরদীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করা সেই তুষার গ্রেপ্তার

সংঘর্ষের ঘটনায় পিস্তল–গুলি সহ গ্রেপ্তার তুষার। ছবি: সংগৃহীত

পাবনা প্রতিনিধি||

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছোড়া সেই যুবক তুষার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। সোমবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ধানবান্ধি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেখানো মতে লুকিয়ে রাখা একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও টানা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তুষারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবি ওসি রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই বেনু রায় ও এসআই অসিত কুমার বসাকসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তুষার তাঁর হেফাজতে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল মাটি চাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে ভেলুপাড়া এলাকায় মাটি খুঁড়ে প্রায় ছয়–সাত ইঞ্চি নিচ থেকে পলিথিনে মোড়া অবস্থায় লোডেড পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুই রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।

ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘তুষারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। আজ দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
মামলা নম্বর–০৬, তারিখ ০২ ডিসেম্বর ২০২৫।

সংঘর্ষ ও পটভূমি

গত ২৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার চরগড়গড়ি গ্রামে জামায়াত–মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে।

সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়—তুষার নামের ওই যুবক পিস্তল উঁচিয়ে প্রতিপক্ষের দিকে গুলি ছুড়ছেন। তিনি বিএনপি না জামায়াত—এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করেন, ‘তুষার জামায়াত নেতা তালেব মণ্ডলের ভাইপো মামুনের ঘনিষ্ঠ। দিবালোকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।’
অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল দাবি করেন, ‘অস্ত্রধারী যুবকের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই।’

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুর নূর নিশ্চিত করেন—তুষার একজন জামায়াতকর্মী এবং বিএনপির দায়ের করা মামলার তালিকাভুক্ত ৬ নম্বর আসামি।

দুই পক্ষের পাল্টা মামলা

সংঘর্ষের ঘটনায় ২৯ নভেম্বর সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতাকে নামীয় আসামি করে মামলা করেন। এতে আরও ১৫০–২০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

এদিকে একই দিন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এতে ১০০–১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিও আসামি হন। উভয় মামলার প্রধান আসামিরা যথাক্রমে বিএনপি নেতা মক্কেল মৃধা ও জামায়াত নেতা আবু তালেব মণ্ডল।

সংঘর্ষের সময় লুট হওয়া যানবাহনের মধ্যে এ পর্যন্ত আগুনে পোড়া মোটরসাইকেলসহ ২১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

ঈশ্বরদীতে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করা সেই তুষার গ্রেপ্তার

Update Time : ০৪:৪১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

সংঘর্ষের ঘটনায় পিস্তল–গুলি সহ গ্রেপ্তার তুষার। ছবি: সংগৃহীত

পাবনা প্রতিনিধি||

পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের সংঘর্ষের সময় পিস্তল উঁচিয়ে গুলি ছোড়া সেই যুবক তুষার হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। সোমবার রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ধানবান্ধি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেখানো মতে লুকিয়ে রাখা একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তি, স্থানীয় সোর্স ও টানা ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তুষারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে ডিবি ওসি রাশিদুল ইসলামের নেতৃত্বে এসআই বেনু রায় ও এসআই অসিত কুমার বসাকসহ পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তুষার তাঁর হেফাজতে থাকা একটি অবৈধ পিস্তল মাটি চাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। পরে ভেলুপাড়া এলাকায় মাটি খুঁড়ে প্রায় ছয়–সাত ইঞ্চি নিচ থেকে পলিথিনে মোড়া অবস্থায় লোডেড পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুই রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।

ডিবির ওসি রাশিদুল ইসলাম বলেন, ‘তুষারের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। আজ দুপুরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
মামলা নম্বর–০৬, তারিখ ০২ ডিসেম্বর ২০২৫।

সংঘর্ষ ও পটভূমি

গত ২৭ নভেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার চরগড়গড়ি গ্রামে জামায়াত–মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ভাঙচুর ও আগুন দেয়া হয় অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে।

সংঘর্ষের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়—তুষার নামের ওই যুবক পিস্তল উঁচিয়ে প্রতিপক্ষের দিকে গুলি ছুড়ছেন। তিনি বিএনপি না জামায়াত—এ নিয়ে দুই দলের মধ্যে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব অভিযোগ করেন, ‘তুষার জামায়াত নেতা তালেব মণ্ডলের ভাইপো মামুনের ঘনিষ্ঠ। দিবালোকে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।’
অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডল দাবি করেন, ‘অস্ত্রধারী যুবকের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই।’

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থানার ওসি আ স ম আব্দুর নূর নিশ্চিত করেন—তুষার একজন জামায়াতকর্মী এবং বিএনপির দায়ের করা মামলার তালিকাভুক্ত ৬ নম্বর আসামি।

দুই পক্ষের পাল্টা মামলা

সংঘর্ষের ঘটনায় ২৯ নভেম্বর সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতাকে নামীয় আসামি করে মামলা করেন। এতে আরও ১৫০–২০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।

এদিকে একই দিন ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। এতে ১০০–১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিও আসামি হন। উভয় মামলার প্রধান আসামিরা যথাক্রমে বিএনপি নেতা মক্কেল মৃধা ও জামায়াত নেতা আবু তালেব মণ্ডল।

সংঘর্ষের সময় লুট হওয়া যানবাহনের মধ্যে এ পর্যন্ত আগুনে পোড়া মোটরসাইকেলসহ ২১টি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

প্রিন্ট করুন :