সঞ্জীব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||
পটুয়াখালীর গলাচিপায় শালিসীর নামে একপক্ষকে ঘুরিয়ে ভোগান্তির শিকার করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ডাকুয়া গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ—শালিসীর আড়ালে চলছে নাটক, আর এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নিরীহ পরিবার।
মাসুদ গাজী ও রেজাউল গাজী জানান, গত ২২ অক্টোবর গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মোসাঃ রাশিদা বেগম। অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ উভয়পক্ষকে ডেকে শালিসীর ব্যবস্থা করে এবং দুই পক্ষের মনোনীত শালিসদের স্বাক্ষরসহ ছয়টি কাট্রিজ পেপারে নথিভুক্ত করে।
কথা ছিল ২৩ অক্টোবর শালিস বসবে, কিন্তু নির্ধারিত দিনে তা আর হয়নি। এ বিষয়ে রেজাউল গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শালিসীর নামে শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিল, তারপর থেকে ঘুরাচ্ছে আমাদের। আমরা গরীব মানুষ, প্রতিদিন ডাকে—শহরে যেতে হয়, কিন্তু কোনো বিচার হয় না।”
প্রতিপক্ষ রাশিদা বেগমও বলেন, “থানা থেকে মানিয়ে নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো শালিস বসেনি। উভয়পক্ষের স্বাক্ষর নিয়েও তারা চুপ।”
মনোনীত শালিস জাকির মোল্লা, ইব্রাহিম মোল্লা ও মিজানুর রহমান অবশ্য বলছেন, “সময় মিলছে না, বসবো শিগগিরই।”
ইউপি সদস্য হানিফ গাজী জানান, “শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বসবে, তবে এখনও বসা হয়নি।”
রেজাউলের স্ত্রী হ্যাপি বেগম বলেন, “আমার স্বামী কৃষক, আমি চার সন্তানের মা। প্রতিদিন বিচার হবে বলে শহরে আসতে বলে, কিন্তু কোনো ফল হয় না। এইভাবে চলতে থাকলে আমরা পথে বসব।”
এদিকে, গলাচিপা থানার এস.আই. মো. হাকিম উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষকে ডেকে শালিসীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নির্ধারিত তারিখে শালিস না হওয়ায় বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”
স্থানীয় সুশীল সমাজ বলছেন, শালিস যদি হয়েই থাকে, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে—নইলে এমন অন্যায়ের শিকার হবে আরও অনেক পরিবার।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















