ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

গলাচিপা সালিশের নামে ভোগান্তি, রোয়েদাদে নয় ছয়

সঞ্জীব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||

পটুয়াখালীর গলাচিপায় শালিসীর নামে একপক্ষকে ঘুরিয়ে ভোগান্তির শিকার করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ডাকুয়া গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ—শালিসীর আড়ালে চলছে নাটক, আর এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নিরীহ পরিবার।

মাসুদ গাজী ও রেজাউল গাজী জানান, গত ২২ অক্টোবর গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মোসাঃ রাশিদা বেগম। অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ উভয়পক্ষকে ডেকে শালিসীর ব্যবস্থা করে এবং দুই পক্ষের মনোনীত শালিসদের স্বাক্ষরসহ ছয়টি কাট্রিজ পেপারে নথিভুক্ত করে।

কথা ছিল ২৩ অক্টোবর শালিস বসবে, কিন্তু নির্ধারিত দিনে তা আর হয়নি। এ বিষয়ে রেজাউল গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শালিসীর নামে শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিল, তারপর থেকে ঘুরাচ্ছে আমাদের। আমরা গরীব মানুষ, প্রতিদিন ডাকে—শহরে যেতে হয়, কিন্তু কোনো বিচার হয় না।”

প্রতিপক্ষ রাশিদা বেগমও বলেন, “থানা থেকে মানিয়ে নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো শালিস বসেনি। উভয়পক্ষের স্বাক্ষর নিয়েও তারা চুপ।”

মনোনীত শালিস জাকির মোল্লা, ইব্রাহিম মোল্লা ও মিজানুর রহমান অবশ্য বলছেন, “সময় মিলছে না, বসবো শিগগিরই।”
ইউপি সদস্য হানিফ গাজী জানান, “শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বসবে, তবে এখনও বসা হয়নি।”

রেজাউলের স্ত্রী হ্যাপি বেগম বলেন, “আমার স্বামী কৃষক, আমি চার সন্তানের মা। প্রতিদিন বিচার হবে বলে শহরে আসতে বলে, কিন্তু কোনো ফল হয় না। এইভাবে চলতে থাকলে আমরা পথে বসব।”

এদিকে, গলাচিপা থানার এস.আই. মো. হাকিম উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষকে ডেকে শালিসীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নির্ধারিত তারিখে শালিস না হওয়ায় বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”

স্থানীয় সুশীল সমাজ বলছেন, শালিস যদি হয়েই থাকে, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে—নইলে এমন অন্যায়ের শিকার হবে আরও অনেক পরিবার।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

গলাচিপা সালিশের নামে ভোগান্তি, রোয়েদাদে নয় ছয়

Update Time : ০৭:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৫

সঞ্জীব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||

পটুয়াখালীর গলাচিপায় শালিসীর নামে একপক্ষকে ঘুরিয়ে ভোগান্তির শিকার করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের ডাকুয়া গ্রামে। স্থানীয়দের অভিযোগ—শালিসীর আড়ালে চলছে নাটক, আর এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নিরীহ পরিবার।

মাসুদ গাজী ও রেজাউল গাজী জানান, গত ২২ অক্টোবর গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন মোসাঃ রাশিদা বেগম। অভিযোগের ভিত্তিতে থানা পুলিশ উভয়পক্ষকে ডেকে শালিসীর ব্যবস্থা করে এবং দুই পক্ষের মনোনীত শালিসদের স্বাক্ষরসহ ছয়টি কাট্রিজ পেপারে নথিভুক্ত করে।

কথা ছিল ২৩ অক্টোবর শালিস বসবে, কিন্তু নির্ধারিত দিনে তা আর হয়নি। এ বিষয়ে রেজাউল গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শালিসীর নামে শুধু কাগজে স্বাক্ষর নিল, তারপর থেকে ঘুরাচ্ছে আমাদের। আমরা গরীব মানুষ, প্রতিদিন ডাকে—শহরে যেতে হয়, কিন্তু কোনো বিচার হয় না।”

প্রতিপক্ষ রাশিদা বেগমও বলেন, “থানা থেকে মানিয়ে নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো শালিস বসেনি। উভয়পক্ষের স্বাক্ষর নিয়েও তারা চুপ।”

মনোনীত শালিস জাকির মোল্লা, ইব্রাহিম মোল্লা ও মিজানুর রহমান অবশ্য বলছেন, “সময় মিলছে না, বসবো শিগগিরই।”
ইউপি সদস্য হানিফ গাজী জানান, “শুনেছি ইউনিয়ন পরিষদে বিষয়টি নিয়ে বসবে, তবে এখনও বসা হয়নি।”

রেজাউলের স্ত্রী হ্যাপি বেগম বলেন, “আমার স্বামী কৃষক, আমি চার সন্তানের মা। প্রতিদিন বিচার হবে বলে শহরে আসতে বলে, কিন্তু কোনো ফল হয় না। এইভাবে চলতে থাকলে আমরা পথে বসব।”

এদিকে, গলাচিপা থানার এস.আই. মো. হাকিম উদ্দিন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষকে ডেকে শালিসীর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নির্ধারিত তারিখে শালিস না হওয়ায় বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”

স্থানীয় সুশীল সমাজ বলছেন, শালিস যদি হয়েই থাকে, তবে তা হতে হবে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে—নইলে এমন অন্যায়ের শিকার হবে আরও অনেক পরিবার।

প্রিন্ট করুন :