ঢাকা ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

‎শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধিতে রিট, সক্রিয় রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞারও আবেদন

সাউথ বাংলা ডেস্ক ||

‎এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাতা ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

‎রবিবার (১৯ অক্টোবর) নরসিংদীর বাসিন্দা আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব ও মহাপরিচালক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

‎শিক্ষা পর্যবেক্ষকদের মতে, শিক্ষক সমাজের একাংশ দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় শিক্ষা পরিবেশে শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে।

‎শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করা। কিন্তু দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ফলে অনেকেই শিক্ষাদান থেকে মনোযোগ সরিয়ে ফেলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং প্রতিষ্ঠানভেদে বিভাজনও তৈরি হচ্ছে।

‎এমন পরিস্থিতিতে যোগ্যতা নয়, বরং রাজনৈতিক আনুগত্য অনেক ক্ষেত্রে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সুবিধার মানদণ্ড হয়ে উঠেছে—এ অভিযোগও তুলেছেন অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক।

‎শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা রাষ্ট্রীয় অর্থে বেতন পান; তাই তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। এতে শিক্ষক সমাজের নিরপেক্ষতা ও সামাজিক মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হয়।

‎শিক্ষা মহলের প্রত্যাশা, আদালতের নির্দেশনায় যেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাও থাকে রাজনীতি থেকে মুক্ত—যেখানে শিক্ষক হবেন শিক্ষার প্রতীক, দলীয় আনুগত্যের নয়।

‎রিট আবেদনটি বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

‎রিটকারী আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা রিটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশনা চেয়েছি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা রোধের দিকেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

‎এর আগে সরকারের অর্থ বিভাগ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়ি ভাতা বৃদ্ধিতে সম্মতি জানায়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়ি ভাতা দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

‎শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধিতে রিট, সক্রিয় রাজনীতিতে নিষেধাজ্ঞারও আবেদন

Update Time : ০৭:১৭:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫

সাউথ বাংলা ডেস্ক ||

‎এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাতা ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

‎রবিবার (১৯ অক্টোবর) নরসিংদীর বাসিন্দা আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া জনস্বার্থে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব ও মহাপরিচালক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ বিভাগের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

‎শিক্ষা পর্যবেক্ষকদের মতে, শিক্ষক সমাজের একাংশ দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় শিক্ষা পরিবেশে শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে।

‎শিক্ষকদের প্রধান দায়িত্ব পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করা। কিন্তু দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার ফলে অনেকেই শিক্ষাদান থেকে মনোযোগ সরিয়ে ফেলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং প্রতিষ্ঠানভেদে বিভাজনও তৈরি হচ্ছে।

‎এমন পরিস্থিতিতে যোগ্যতা নয়, বরং রাজনৈতিক আনুগত্য অনেক ক্ষেত্রে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সুবিধার মানদণ্ড হয়ে উঠেছে—এ অভিযোগও তুলেছেন অনেক শিক্ষক ও অভিভাবক।

‎শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা রাষ্ট্রীয় অর্থে বেতন পান; তাই তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। এতে শিক্ষক সমাজের নিরপেক্ষতা ও সামাজিক মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হয়।

‎শিক্ষা মহলের প্রত্যাশা, আদালতের নির্দেশনায় যেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বাস্তবায়নের পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাও থাকে রাজনীতি থেকে মুক্ত—যেখানে শিক্ষক হবেন শিক্ষার প্রতীক, দলীয় আনুগত্যের নয়।

‎রিট আবেদনটি বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

‎রিটকারী আরিফুর রহমান মুরাদ ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা রিটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশনা চেয়েছি। একই সঙ্গে শিক্ষকদের সক্রিয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা রোধের দিকেও আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।’

‎এর আগে সরকারের অর্থ বিভাগ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বাড়ি ভাতা বৃদ্ধিতে সম্মতি জানায়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২ হাজার টাকা) বাড়ি ভাতা দেওয়া হবে।

প্রিন্ট করুন :