ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

পবিপ্রবিতে লোন কেলেঙ্কারি: সর্ষের মধ্যেই ভূত

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেই অভিযোগের পাহাড়

দুমকী (পটুয়াখালী)||

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বহুল আলোচিত লোন কেলেঙ্কারির তদন্তে নতুন করে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব হয়েছেন অর্থ ও হিসাব শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তিনিই নাকি অনিয়ম আর দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন গত কয়েক বছরে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক দুই ভিসি অধ্যাপক হারুনুর রশীদ ও অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তকে ‘ম্যানেজ’ করেই উপ-পরিচালক থেকে পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পদে আসেন জসিম উদ্দিন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন নানা কারসাজি।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় আছে—

১. উৎকোচ নিয়ে ঠিকাদারদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া,

২. ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার কেলেঙ্কারির মূল আসামি আবু সালেহ ইছার একাধিক বিদেশ ভ্রমণে অর্থ জোগান,

৩. ব্যক্তিগত স্বার্থে অভিযুক্ত ওই ল্যাব অ্যাটেনডেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো,

৪. ঘুষ নিয়ে সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার শিকদারকে ক্যাশবুক, লেজার বুক, ব্যাংক বই বুঝে না নিয়েই অব্যাহতি দেওয়া,

৫. উন্নয়ন প্রকল্পে পারসেন্টেজ বাণিজ্য,

৬. দুর্নীতির টাকায় বরিশাল, পটুয়াখালী ও কুয়াকাটায় জমি ও ফ্ল্যাট কেনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাউথ বাংলাকে বলেন, “ক্যাশবুক-লেজার সঠিকভাবে হস্তান্তর না হওয়ার কারণেই আবু সালেহ ইছা সুযোগ পেয়েছে টাকা লোপাটের।”

তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জসিম উদ্দিনের দাবি, “এসবই বানোয়াট। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করা হচ্ছে।”

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ বলেছেন, “সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তদন্ত নিরপেক্ষভাবেই চলবে। নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।”

অন্যদিকে রেজিস্ট্রার সাউথ বাংলাকে জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থেই নতুন কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

পবিপ্রবিতে লোন কেলেঙ্কারি: সর্ষের মধ্যেই ভূত

Update Time : ০৯:৪৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেই অভিযোগের পাহাড়

দুমকী (পটুয়াখালী)||

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বহুল আলোচিত লোন কেলেঙ্কারির তদন্তে নতুন করে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব হয়েছেন অর্থ ও হিসাব শাখার ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তিনিই নাকি অনিয়ম আর দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন গত কয়েক বছরে।

অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক দুই ভিসি অধ্যাপক হারুনুর রশীদ ও অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তকে ‘ম্যানেজ’ করেই উপ-পরিচালক থেকে পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) পদে আসেন জসিম উদ্দিন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শুরু করেন নানা কারসাজি।

তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকায় আছে—

১. উৎকোচ নিয়ে ঠিকাদারদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া,

২. ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার কেলেঙ্কারির মূল আসামি আবু সালেহ ইছার একাধিক বিদেশ ভ্রমণে অর্থ জোগান,

৩. ব্যক্তিগত স্বার্থে অভিযুক্ত ওই ল্যাব অ্যাটেনডেন্টকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো,

৪. ঘুষ নিয়ে সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার শিকদারকে ক্যাশবুক, লেজার বুক, ব্যাংক বই বুঝে না নিয়েই অব্যাহতি দেওয়া,

৫. উন্নয়ন প্রকল্পে পারসেন্টেজ বাণিজ্য,

৬. দুর্নীতির টাকায় বরিশাল, পটুয়াখালী ও কুয়াকাটায় জমি ও ফ্ল্যাট কেনা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাউথ বাংলাকে বলেন, “ক্যাশবুক-লেজার সঠিকভাবে হস্তান্তর না হওয়ার কারণেই আবু সালেহ ইছা সুযোগ পেয়েছে টাকা লোপাটের।”

তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জসিম উদ্দিনের দাবি, “এসবই বানোয়াট। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেয় করা হচ্ছে।”

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ বলেছেন, “সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তদন্ত নিরপেক্ষভাবেই চলবে। নির্দিষ্ট সময়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।”

অন্যদিকে রেজিস্ট্রার সাউথ বাংলাকে জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থেই নতুন কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। ভাইস চ্যান্সেলরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

প্রিন্ট করুন :