নিজস্ব প্রতিবেদক, চরফ্যাশন |
জমি কেনাবেচার বায়না ছিল ৬ লক্ষ টাকায়। স্ট্যাম্পে চুক্তিও হয়েছিল। বায়না বাবদ হাতবদল হয়েছিল দেড় লক্ষ টাকা। পরে আরও টাকা লেনদেন হয়। কিন্তু সময় পেরোতেই জমি কেনা নয়, উলটে দাবি উঠে চার লক্ষ টাকা ফেরতের! আর সেই দাবিকৃত টাকা না পেয়ে ঘরভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং খুনের হুমকি—অভিযোগ উঠল ভোলার চরফ্যাশনের এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আতঙ্কে গত চার দিন নিজ বাড়িতেই অবরুদ্ধ প্রবাস ফেরত মাহাফুজুর রহমান ও তাঁর পরিবার।
ঘটনাটি চরফ্যাশন পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মাদ্রাজ এলাকায়। অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী আলমগীর হোসেন ২০২৩ সালের আগস্টে মাহাফুজুরের পিতৃসম্পত্তির আড়াই শতক জমি কিনতে চুক্তিবদ্ধ হন। স্ট্যাম্পে চুক্তি মোতাবেক দেন দেড় লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে আরও এক লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু দলিল রেজিস্ট্রির সময় আলমগীর জানান, তিনি আর জমি কিনবেন না। নিজের বায়নার টাকা ফেরতের দাবি তোলেন।
মাহাফুজের দাবি, পরে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার মধ্যস্থতায় আলমগীরকে ধাপে ধাপে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর আলমগীর দাবি তোলেন আরও ৪ লক্ষ টাকার। প্রবাসীর পরিবারের কথায়, “আমাদের ২০ হাজার টাকা তাঁর কাছে পাওনা, অথচ উনি উলটো ৪ লক্ষ টাকা দাবি করছেন!”
অভিযোগ আরও গুরুতর। গত বুধবার বিকেল ও সন্ধ্যায় আলমগীর ও তাঁর ৫০–৬০ জনের বাহিনী দু’দফায় হামলা চালায় ওই প্রবাসীর বাড়িতে। প্রথমে মারধরের চেষ্টা, পরে সন্ধ্যার পর ঘরে ঢুকে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগানোর চেষ্টা। প্রতিবেশীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও আতঙ্কে কাঁপছিলেন মাহাফুজুরের স্ত্রী ও ছোট শিশুরা। তার ওপর চলে ঘরে তল্লাশি, ভাঙচুর, তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি।
মাহাফুজুর বলেন, “চার দিন ধরে আমি, আমার স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়ির ভেতরে অবরুদ্ধ। থানায় গেলে পুলিশ অভিযোগ নেয় না। বরং তালবাহানা করে।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত আলমগীর হোসেন আনন্দবাজার অনলাইনকে জানান, “আমি মোট ৪ লক্ষ টাকা দিয়েছি মাহাফুজকে। ও আমাকে জমি বুঝিয়ে দেয়নি। তাই আমার টাকা ফেরত চাইছি। ঘরে আগুন দেওয়া বা হামলার অভিযোগ ঠিক নয়।”
চরফ্যাশন থানার ওসি মিজানুর রহমান হাওলাদারের ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে থানার জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, “ঘটনার কথা শুনেছি। কেউ এখনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















