নিজস্ব সংবাদদাতা | গলাচিপা, পটুয়াখালী |
শনিবার সন্ধ্যায় নিখোঁজ। রবিবার দুপুরে দেখা মিলল ১৫ বছরের সীমার — তাও এক মোবাইল ফোন কোম্পানির টাওয়ারের চূড়ায়!
১৭ ঘণ্টা নিখোঁজ থাকার পর দশমিনার বেতাগী সানকিপুরে সেই কিশোরীকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও পল্লী বিদ্যুৎ-এর যৌথ বাহিনী।
স্থানীয় মানুষ রীতিমতো স্তব্ধ। কে ভেবেছিল, গ্রামের প্রান্তে অবস্থিত হাইওয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা টাওয়ারটিই এমন রহস্যের কেন্দ্র হয়ে উঠবে!
ঘটনার শুরু শনিবার সন্ধ্যায়।
কাউকে কিছু না জানিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় সীমা বেগম (১৫)। মেয়ের খোঁজ না পেয়ে রাতেই মাইকিং করে প্রচার চালায় পরিবার।
পরদিন সকাল ১১টা।
এক অটোরিকশাচালক দূর থেকে টাওয়ারের মাথায় কাউকে বসে থাকতে দেখে সন্দেহ করে স্থানীয়দের জানান। ভিড় জমে যায়। খবর যায় ফায়ার সার্ভিসে।
পটুয়াখালীর বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। সঙ্গে যোগ দেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্মীরাও। প্রায় দুই ঘণ্টা শ্বাসরুদ্ধকর চেষ্টার পর জীবিত উদ্ধার করা হয় সীমাকে।
সীমার বাবা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, “আমার মেয়ের মানসিক সমস্যা আছে। মাঝে মাঝেই এমনভাবে হঠাৎ চলে যায়। আগেও কয়েকবার এমন হয়েছে। তবে এবার যা ঘটল, তা যেন সিনেমা!”
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, মেয়েটির চাচা ও গ্রামবাসীদের সহায়তা ছাড়া এত কঠিন কাজ সফল হত না।
“উচ্চতা, ঝুঁকি, বাতাস— সবকিছু মাথায় রেখে খুব সাবধানে নামিয়ে আনতে হয়েছে,” জানান এক উদ্ধারকর্মী।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় তুমুল আলোড়ন।
অনেকে বলছেন, “মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হলেও একটা কিশোরী কেমন করে এত উচ্চতায় উঠল, সেটা ভেবে অবাক লাগছে।”
স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে সীমার পরিবারকে চিকিৎসা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তার পরামর্শ দিয়েছে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 
























