ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

দুমকীতে ঝড়ের তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হাসির ঘর, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রান্তিক গ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক||

রাত তিনটা। সবাই যখন ঘুমে, তখনই আঘাত হানে প্রকৃতির রুদ্ররূপ। দুমকীর লেবুখালী ইউনিয়নের ছোট্ট একটি ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন হাসি বেগম, তাঁর ৯ বছরের ছেলে তালহাকে নিয়ে। হঠাৎ এক প্রচণ্ড শব্দ—তারপর সব যেন অন্ধকার।

আকাশ থেকে যেন নেমে আসে ধ্বংস। গাছ ভেঙে পড়ে তাঁর মাথা গোঁজার ঠাইয়ের ওপর। মাত্র ২ বছর আগে বাবার জমিতে সরকারি সহায়তায় পাওয়া একমাত্র ঘরটিই এক নিমিষে ধ্বংস। আশ্রয়হীন হাসি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “ছেলেকে বুকে জড়িয়ে কোনোমতে বের হয়েছি, গাছটা পুরো ঘরের উপর পড়ে যায়।”

সেই গাছ জব্বার প্যাদার বাড়ির পাশের চাম্বল গাছ। ঝড়ের ঝাপটায় উপড়ে এসে বিধ্বস্ত করেছে হাসির জীবনটাও।
তিনি স্বামী পরিত্যক্তা। এই ঘরটিই ছিল তাঁর শেষ সম্বল।

শুধু হাসি নন, একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শেফালী ও রেনু বেগমের ঘরেও নেমে এসেছে একই দুঃস্বপ্ন। তাদের ঘরের ওপরও গাছ পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দা শহীদ ফরাজি ও অজিত শীল বলেন, “এই মানুষগুলো গরিব, ঘর হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে। সরকার যে ঘর দিয়েছিল, সেইটাও রইল না।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুস ফরাজি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, “চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে সাহায্য করব।”

ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলছেন, “এই ঝড়ে ইউনিয়নে অনেক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দুমকী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ জানান, “৫টি খুঁটি ভেঙে গেছে, শতাধিক জায়গায় তার ছিঁড়েছে। ৭ জন লোকবলের মধ্যে ৩ জন আন্দোলনে, বাকি ৪ জন দিয়ে মেরামত চলছে, সময় লাগবে।”

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে আবেদন পেলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।”

হাসি বেগমের মুখে এখন একটাই কথা—”সরকার একটা ঘর দিলে আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পাই। ছেলেটারে নিয়ে এখন কোথায় যামু?”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

দুমকীতে ঝড়ের তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হাসির ঘর, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন প্রান্তিক গ্রাম

Update Time : ০৮:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক||

রাত তিনটা। সবাই যখন ঘুমে, তখনই আঘাত হানে প্রকৃতির রুদ্ররূপ। দুমকীর লেবুখালী ইউনিয়নের ছোট্ট একটি ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন হাসি বেগম, তাঁর ৯ বছরের ছেলে তালহাকে নিয়ে। হঠাৎ এক প্রচণ্ড শব্দ—তারপর সব যেন অন্ধকার।

আকাশ থেকে যেন নেমে আসে ধ্বংস। গাছ ভেঙে পড়ে তাঁর মাথা গোঁজার ঠাইয়ের ওপর। মাত্র ২ বছর আগে বাবার জমিতে সরকারি সহায়তায় পাওয়া একমাত্র ঘরটিই এক নিমিষে ধ্বংস। আশ্রয়হীন হাসি কাঁদতে কাঁদতে বললেন, “ছেলেকে বুকে জড়িয়ে কোনোমতে বের হয়েছি, গাছটা পুরো ঘরের উপর পড়ে যায়।”

সেই গাছ জব্বার প্যাদার বাড়ির পাশের চাম্বল গাছ। ঝড়ের ঝাপটায় উপড়ে এসে বিধ্বস্ত করেছে হাসির জীবনটাও।
তিনি স্বামী পরিত্যক্তা। এই ঘরটিই ছিল তাঁর শেষ সম্বল।

শুধু হাসি নন, একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শেফালী ও রেনু বেগমের ঘরেও নেমে এসেছে একই দুঃস্বপ্ন। তাদের ঘরের ওপরও গাছ পড়ে চূর্ণবিচূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দা শহীদ ফরাজি ও অজিত শীল বলেন, “এই মানুষগুলো গরিব, ঘর হারিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে। সরকার যে ঘর দিয়েছিল, সেইটাও রইল না।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউনুস ফরাজি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, “চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে সাহায্য করব।”

ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলছেন, “এই ঝড়ে ইউনিয়নে অনেক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। দুমকী উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ জানান, “৫টি খুঁটি ভেঙে গেছে, শতাধিক জায়গায় তার ছিঁড়েছে। ৭ জন লোকবলের মধ্যে ৩ জন আন্দোলনে, বাকি ৪ জন দিয়ে মেরামত চলছে, সময় লাগবে।”

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে আবেদন পেলে দ্রুত সহায়তা দেওয়া হবে।”

হাসি বেগমের মুখে এখন একটাই কথা—”সরকার একটা ঘর দিলে আবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পাই। ছেলেটারে নিয়ে এখন কোথায় যামু?”

প্রিন্ট করুন :