ঢাকা ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

ছাদে উড়ছে সাফল্যের গল্প: চাকরি ছেড়ে কবুতর পালনে মাসে আয় ৪০ হাজার!

📍 ভোলা, প্রতিবেদক:

চাকরি মানে কি শুধুই নিশ্চয়তা? নাকি সীমাবদ্ধতা?—ভোলার যুবক জাকির মোল্লার গল্প যেন এই প্রশ্নেরই এক জ্যান্ত উত্তর। একদিন ঢাকায় কর্পোরেট চাকরিতে ছিলেন, আর আজ—ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে রং-বেরঙের কবুতরের দিকে তাকিয়ে হাসেন।

“সব ছেড়ে ফিরে এসেছি শেকড়ে। মনে হচ্ছিল, যান্ত্রিক জীবনে আমি শুধু বেঁচে আছি, বাঁচছি না,”—বলছেন জাকির মোল্লা, ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা এলাকার বাসিন্দা।

চারতলা একটি ভবনের ছাদে বসে গেছেন ‘কবুতরের রাজা’। প্রায় ১০০ জোড়া কবুতর। দামি জাতের অনেক কবুতর, যাদের একেক জোড়ার দাম ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত! প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা খাওয়ানো, পরিচর্যা, প্রজনন আর বিক্রি—এই নিয়েই জাকিরের নতুন জীবন।

শখ থেকে সাফল্যঃ

ছোটবেলা থেকেই পাখির প্রতি টান। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনের চাপ আর জীবিকার তাগিদে তা চাপা পড়ে ছিল বহুদিন। তবে সেই টান একদিন আর চাপা রাখা গেল না।

“শুধু আয় নয়, মানসিক প্রশান্তিরও বড় উৎস আমার কবুতরেরা,”—জাকিরের কণ্ঠে প্রশান্তির ছোঁয়া।

তাঁর ফার্ম থেকে এখন প্রতি মাসেই আয় হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। খরচ কম, পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে সহজ। ফলে শুধু আর্থিক নয়, মানসিক দিক থেকেও সচ্ছল তিনি।

চাকরির বিকল্প হতে পারে কবুতর?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো খুঁজে পাবেন জাকিরের আত্মবিশ্বাসে।
“সবাই চাকরি খুঁজছে, কিন্তু অনেক সময় সুযোগ আসে না। আমি বলি, নিজের জন্য কাজ খুঁজে নিন। এই কবুতরের ব্যবসা এখন শুধু আমার না—আমার চারপাশের অনেক তরুণও উৎসাহ পাচ্ছেন।”

সরকারি কোনো প্রশিক্ষণ না নিয়েও তিনি সফল। তবে মনে করেন, সরকারের সামান্য সহায়তা বা প্রশিক্ষণ পেলে অনেক বেকার তরুণই এরকমের ছোট ছোট পথ ধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

“চাকরি না পেলে ভেঙে পড়ার কিছু নেই,”—বলছেন তিনি।
“যদি শখকে সঠিক পরিকল্পনা আর সাহস দিয়ে এগিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে সেটাই হতে পারে সাফল্যের সবচেয়ে বড় সোপান।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

ছাদে উড়ছে সাফল্যের গল্প: চাকরি ছেড়ে কবুতর পালনে মাসে আয় ৪০ হাজার!

Update Time : ১০:৩৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ মে ২০২৫

📍 ভোলা, প্রতিবেদক:

চাকরি মানে কি শুধুই নিশ্চয়তা? নাকি সীমাবদ্ধতা?—ভোলার যুবক জাকির মোল্লার গল্প যেন এই প্রশ্নেরই এক জ্যান্ত উত্তর। একদিন ঢাকায় কর্পোরেট চাকরিতে ছিলেন, আর আজ—ছাদের কোণে দাঁড়িয়ে রং-বেরঙের কবুতরের দিকে তাকিয়ে হাসেন।

“সব ছেড়ে ফিরে এসেছি শেকড়ে। মনে হচ্ছিল, যান্ত্রিক জীবনে আমি শুধু বেঁচে আছি, বাঁচছি না,”—বলছেন জাকির মোল্লা, ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা এলাকার বাসিন্দা।

চারতলা একটি ভবনের ছাদে বসে গেছেন ‘কবুতরের রাজা’। প্রায় ১০০ জোড়া কবুতর। দামি জাতের অনেক কবুতর, যাদের একেক জোড়ার দাম ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত! প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা খাওয়ানো, পরিচর্যা, প্রজনন আর বিক্রি—এই নিয়েই জাকিরের নতুন জীবন।

শখ থেকে সাফল্যঃ

ছোটবেলা থেকেই পাখির প্রতি টান। কিন্তু প্রাত্যহিক জীবনের চাপ আর জীবিকার তাগিদে তা চাপা পড়ে ছিল বহুদিন। তবে সেই টান একদিন আর চাপা রাখা গেল না।

“শুধু আয় নয়, মানসিক প্রশান্তিরও বড় উৎস আমার কবুতরেরা,”—জাকিরের কণ্ঠে প্রশান্তির ছোঁয়া।

তাঁর ফার্ম থেকে এখন প্রতি মাসেই আয় হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। খরচ কম, পরিশ্রম তুলনামূলকভাবে সহজ। ফলে শুধু আর্থিক নয়, মানসিক দিক থেকেও সচ্ছল তিনি।

চাকরির বিকল্প হতে পারে কবুতর?

এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো খুঁজে পাবেন জাকিরের আত্মবিশ্বাসে।
“সবাই চাকরি খুঁজছে, কিন্তু অনেক সময় সুযোগ আসে না। আমি বলি, নিজের জন্য কাজ খুঁজে নিন। এই কবুতরের ব্যবসা এখন শুধু আমার না—আমার চারপাশের অনেক তরুণও উৎসাহ পাচ্ছেন।”

সরকারি কোনো প্রশিক্ষণ না নিয়েও তিনি সফল। তবে মনে করেন, সরকারের সামান্য সহায়তা বা প্রশিক্ষণ পেলে অনেক বেকার তরুণই এরকমের ছোট ছোট পথ ধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।

“চাকরি না পেলে ভেঙে পড়ার কিছু নেই,”—বলছেন তিনি।
“যদি শখকে সঠিক পরিকল্পনা আর সাহস দিয়ে এগিয়ে নেওয়া যায়, তাহলে সেটাই হতে পারে সাফল্যের সবচেয়ে বড় সোপান।”

প্রিন্ট করুন :