ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

সুদে জর্জরিত জীবন, শেষ আশ্রয় ফাঁসের দড়ি — গলাচিপায় বই ব্যবসায়ীর আত্মহনন

সঞ্জীব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||

দোকানটার নাম ‘খোকন লাইব্রেরি’। বইয়ের গন্ধে ভরা, প্রতিদিন পাঠক-শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় জমজমাট। কিন্তু মঙ্গলবার রাতটা যেন বইয়ের পাতায় নয়, লেখা হয়ে রইল গলাচিপার হৃদয়বিদারক এক অধ্যায়ে।

৫৫ বছরের খোকন দাস, একজন সাধারণ বই ব্যবসায়ী। কিন্তু তার জীবনের শেষ অধ্যায়টা রচিত হল সুদের ফাঁদে পড়ে। রাত ১১টা, নিজের দোকানের ভেতর, নিথর হয়ে ঝুলছিলেন খোকন। হাতে ধরা একটি চিরকুট, যেন তাঁর জীবনের শেষ পৃষ্ঠা।

চিরকুটে লেখা ছিল—
হালিমা বেগম ও রেখা বেগম—দুই পাওনাদারের নাম। কয়েক বছর আগে তাঁদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকার মতো ঋণ নিয়েছিলেন খোকন, মোটা সুদে। সময়মতো দিতে না পারায় প্রতিদিন চাপ, হুমকি, অপমানের বোঝা যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।

মঙ্গলবার সকালে হালিমা এসে হাজির হয় দোকানে। বকাঝকা, চিৎকার। সেই মানসিক চাপে রাতেই দোকানের আড়ায় ফাঁস দিয়ে নিজের জীবনের ইতি টানলেন খোকন।

গলাচিপা থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, “চিরকুট উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে আত্মহত্যা ধরা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আত্মীয়স্বজন আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুদে পাওয়া টাকার ফাঁসেই হারিয়ে গেল একটি জীবন।

প্রশাসনের নীরবতা, ব্যক্তিগত দুঃসহ অভিজ্ঞতা আর সমাজের সুদের লৌহকঠিন দুষ্টচক্র—সব মিলিয়ে এই মৃত্যু যেন কোনো একটি ব্যক্তির নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার মুখে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।

গলাচিপার খোকন দাস আজ নেই। কিন্তু রেখে গেলেন এক চিরন্তন প্রশ্ন—‘ঋণ নিলে কি শেষমেষ প্রাণটাই দিতে হয়?’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

সুদে জর্জরিত জীবন, শেষ আশ্রয় ফাঁসের দড়ি — গলাচিপায় বই ব্যবসায়ীর আত্মহনন

Update Time : ০৭:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

সঞ্জীব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||

দোকানটার নাম ‘খোকন লাইব্রেরি’। বইয়ের গন্ধে ভরা, প্রতিদিন পাঠক-শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় জমজমাট। কিন্তু মঙ্গলবার রাতটা যেন বইয়ের পাতায় নয়, লেখা হয়ে রইল গলাচিপার হৃদয়বিদারক এক অধ্যায়ে।

৫৫ বছরের খোকন দাস, একজন সাধারণ বই ব্যবসায়ী। কিন্তু তার জীবনের শেষ অধ্যায়টা রচিত হল সুদের ফাঁদে পড়ে। রাত ১১টা, নিজের দোকানের ভেতর, নিথর হয়ে ঝুলছিলেন খোকন। হাতে ধরা একটি চিরকুট, যেন তাঁর জীবনের শেষ পৃষ্ঠা।

চিরকুটে লেখা ছিল—
হালিমা বেগম ও রেখা বেগম—দুই পাওনাদারের নাম। কয়েক বছর আগে তাঁদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকার মতো ঋণ নিয়েছিলেন খোকন, মোটা সুদে। সময়মতো দিতে না পারায় প্রতিদিন চাপ, হুমকি, অপমানের বোঝা যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।

মঙ্গলবার সকালে হালিমা এসে হাজির হয় দোকানে। বকাঝকা, চিৎকার। সেই মানসিক চাপে রাতেই দোকানের আড়ায় ফাঁস দিয়ে নিজের জীবনের ইতি টানলেন খোকন।

গলাচিপা থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, “চিরকুট উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে আত্মহত্যা ধরা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আত্মীয়স্বজন আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুদে পাওয়া টাকার ফাঁসেই হারিয়ে গেল একটি জীবন।

প্রশাসনের নীরবতা, ব্যক্তিগত দুঃসহ অভিজ্ঞতা আর সমাজের সুদের লৌহকঠিন দুষ্টচক্র—সব মিলিয়ে এই মৃত্যু যেন কোনো একটি ব্যক্তির নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার মুখে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।

গলাচিপার খোকন দাস আজ নেই। কিন্তু রেখে গেলেন এক চিরন্তন প্রশ্ন—‘ঋণ নিলে কি শেষমেষ প্রাণটাই দিতে হয়?’

প্রিন্ট করুন :