ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

সুদে জর্জরিত জীবন, শেষ আশ্রয় ফাঁসের দড়ি — গলাচিপায় বই ব্যবসায়ীর আত্মহনন

সঞ্জীব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||

দোকানটার নাম ‘খোকন লাইব্রেরি’। বইয়ের গন্ধে ভরা, প্রতিদিন পাঠক-শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় জমজমাট। কিন্তু মঙ্গলবার রাতটা যেন বইয়ের পাতায় নয়, লেখা হয়ে রইল গলাচিপার হৃদয়বিদারক এক অধ্যায়ে।

৫৫ বছরের খোকন দাস, একজন সাধারণ বই ব্যবসায়ী। কিন্তু তার জীবনের শেষ অধ্যায়টা রচিত হল সুদের ফাঁদে পড়ে। রাত ১১টা, নিজের দোকানের ভেতর, নিথর হয়ে ঝুলছিলেন খোকন। হাতে ধরা একটি চিরকুট, যেন তাঁর জীবনের শেষ পৃষ্ঠা।

চিরকুটে লেখা ছিল—
হালিমা বেগম ও রেখা বেগম—দুই পাওনাদারের নাম। কয়েক বছর আগে তাঁদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকার মতো ঋণ নিয়েছিলেন খোকন, মোটা সুদে। সময়মতো দিতে না পারায় প্রতিদিন চাপ, হুমকি, অপমানের বোঝা যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।

মঙ্গলবার সকালে হালিমা এসে হাজির হয় দোকানে। বকাঝকা, চিৎকার। সেই মানসিক চাপে রাতেই দোকানের আড়ায় ফাঁস দিয়ে নিজের জীবনের ইতি টানলেন খোকন।

গলাচিপা থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, “চিরকুট উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে আত্মহত্যা ধরা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আত্মীয়স্বজন আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুদে পাওয়া টাকার ফাঁসেই হারিয়ে গেল একটি জীবন।

প্রশাসনের নীরবতা, ব্যক্তিগত দুঃসহ অভিজ্ঞতা আর সমাজের সুদের লৌহকঠিন দুষ্টচক্র—সব মিলিয়ে এই মৃত্যু যেন কোনো একটি ব্যক্তির নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার মুখে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।

গলাচিপার খোকন দাস আজ নেই। কিন্তু রেখে গেলেন এক চিরন্তন প্রশ্ন—‘ঋণ নিলে কি শেষমেষ প্রাণটাই দিতে হয়?’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

সুদে জর্জরিত জীবন, শেষ আশ্রয় ফাঁসের দড়ি — গলাচিপায় বই ব্যবসায়ীর আত্মহনন

Update Time : ০৭:৪৯:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ মে ২০২৫

সঞ্জীব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||

দোকানটার নাম ‘খোকন লাইব্রেরি’। বইয়ের গন্ধে ভরা, প্রতিদিন পাঠক-শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় জমজমাট। কিন্তু মঙ্গলবার রাতটা যেন বইয়ের পাতায় নয়, লেখা হয়ে রইল গলাচিপার হৃদয়বিদারক এক অধ্যায়ে।

৫৫ বছরের খোকন দাস, একজন সাধারণ বই ব্যবসায়ী। কিন্তু তার জীবনের শেষ অধ্যায়টা রচিত হল সুদের ফাঁদে পড়ে। রাত ১১টা, নিজের দোকানের ভেতর, নিথর হয়ে ঝুলছিলেন খোকন। হাতে ধরা একটি চিরকুট, যেন তাঁর জীবনের শেষ পৃষ্ঠা।

চিরকুটে লেখা ছিল—
হালিমা বেগম ও রেখা বেগম—দুই পাওনাদারের নাম। কয়েক বছর আগে তাঁদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকার মতো ঋণ নিয়েছিলেন খোকন, মোটা সুদে। সময়মতো দিতে না পারায় প্রতিদিন চাপ, হুমকি, অপমানের বোঝা যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।

মঙ্গলবার সকালে হালিমা এসে হাজির হয় দোকানে। বকাঝকা, চিৎকার। সেই মানসিক চাপে রাতেই দোকানের আড়ায় ফাঁস দিয়ে নিজের জীবনের ইতি টানলেন খোকন।

গলাচিপা থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, “চিরকুট উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে আত্মহত্যা ধরা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আত্মীয়স্বজন আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সুদে পাওয়া টাকার ফাঁসেই হারিয়ে গেল একটি জীবন।

প্রশাসনের নীরবতা, ব্যক্তিগত দুঃসহ অভিজ্ঞতা আর সমাজের সুদের লৌহকঠিন দুষ্টচক্র—সব মিলিয়ে এই মৃত্যু যেন কোনো একটি ব্যক্তির নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার মুখে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।

গলাচিপার খোকন দাস আজ নেই। কিন্তু রেখে গেলেন এক চিরন্তন প্রশ্ন—‘ঋণ নিলে কি শেষমেষ প্রাণটাই দিতে হয়?’

প্রিন্ট করুন :