
সঞ্জীব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||
দোকানটার নাম ‘খোকন লাইব্রেরি’। বইয়ের গন্ধে ভরা, প্রতিদিন পাঠক-শিক্ষার্থীদের আনাগোনায় জমজমাট। কিন্তু মঙ্গলবার রাতটা যেন বইয়ের পাতায় নয়, লেখা হয়ে রইল গলাচিপার হৃদয়বিদারক এক অধ্যায়ে।
৫৫ বছরের খোকন দাস, একজন সাধারণ বই ব্যবসায়ী। কিন্তু তার জীবনের শেষ অধ্যায়টা রচিত হল সুদের ফাঁদে পড়ে। রাত ১১টা, নিজের দোকানের ভেতর, নিথর হয়ে ঝুলছিলেন খোকন। হাতে ধরা একটি চিরকুট, যেন তাঁর জীবনের শেষ পৃষ্ঠা।
চিরকুটে লেখা ছিল—
হালিমা বেগম ও রেখা বেগম—দুই পাওনাদারের নাম। কয়েক বছর আগে তাঁদের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকার মতো ঋণ নিয়েছিলেন খোকন, মোটা সুদে। সময়মতো দিতে না পারায় প্রতিদিন চাপ, হুমকি, অপমানের বোঝা যেন অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।
মঙ্গলবার সকালে হালিমা এসে হাজির হয় দোকানে। বকাঝকা, চিৎকার। সেই মানসিক চাপে রাতেই দোকানের আড়ায় ফাঁস দিয়ে নিজের জীবনের ইতি টানলেন খোকন।
গলাচিপা থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান জানান, “চিরকুট উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রাথমিক কারণ হিসেবে আত্মহত্যা ধরা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আত্মীয়স্বজন আসলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সুদে পাওয়া টাকার ফাঁসেই হারিয়ে গেল একটি জীবন।
প্রশাসনের নীরবতা, ব্যক্তিগত দুঃসহ অভিজ্ঞতা আর সমাজের সুদের লৌহকঠিন দুষ্টচক্র—সব মিলিয়ে এই মৃত্যু যেন কোনো একটি ব্যক্তির নয়, বরং গোটা ব্যবস্থার মুখে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।
গলাচিপার খোকন দাস আজ নেই। কিন্তু রেখে গেলেন এক চিরন্তন প্রশ্ন—‘ঋণ নিলে কি শেষমেষ প্রাণটাই দিতে হয়?’