ঢাকা ০১:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

পবিপ্রবির বিজয় ২৪ হলের মোয়াজ্জেম হোসেনের অশ্রুজলে বিদায়ী সংবর্ধনা

রোজ ভোরে উঠতেন। আগুন ধরাতেন চুলায়, চাল বসাতেন পাত্রে। বিজয়-২৪ হলের রান্নাঘরে তখন থেকেই শুরু হতো মোয়াজ্জেম হোসেনের দিন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এই নিরব কর্মী, যিনি নিজেকে কখনো ‘বড় কিছু’ ভাবেননি—তাঁর বিদায় মুহূর্তে কেঁদেছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।

১৯৮৪ সালে যখন পবিপ্রবিতে যোগ দেন মোয়াজ্জেম, তখন অনেক কিছুই ছিল না—কাঠামো, সুবিধা, এমনকি স্থায়ী ভবনও না। কিন্তু ছিলেন তিনি। ছেলেমেয়েদের পেট ভরে খাওয়াতে পেছনের রান্নাঘরে নিঃশব্দে যাঁর যুদ্ধ, সেই মানুষটিকে বিদায় জানাতে চোখের কোণে জল ধরে রাখতে পারেননি সহকর্মীরা, শিক্ষকরা এমনকি উপাচার্যও।

২২ মে সকালে উপাচার্যের দপ্তরে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনায় প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “তিনি শুধু এক জন রান্নার কর্মী ছিলেন না, ছিলেন এক আশ্রয়—বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তরের মানুষ।”

অনুষ্ঠানে একে একে স্মৃতি রোমন্থন করেন সহকর্মীরা। কেউ বললেন, “ওনার হাতে ভাত না পেলে দুপুরটাই মাটি হয়ে যেত।” কেউবা স্মরণ করলেন—“সেই শীতের রাতে যখন অসুস্থ ছিলাম, তিনিই এনে দিয়েছিলেন গরম খিচুড়ি।”

এ যেন কর্মজীবনের শেষ দিন নয়, বরং এক ইতিহাসের শেষ অধ্যায়। আবেগে কাঁপা কণ্ঠে মোয়াজ্জেম হোসেন বললেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার পরিবার। আমি কিছু করিনি, শুধু দায়িত্ব পালন করেছি।”

তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হলো সম্মাননা স্মারক, জায়নামাজ, তসবিহ আর ভালোবাসা। বিদায়ের মুহূর্তে উপস্থিত সবাই ছিলেন নিরব কান্নার ভাগীদার।

আজ থেকে রান্নাঘরে আর শোনা যাবে না সেই চেনা হাঁক, ভাতের সেই সুবাসও যেন একটু কম লাগবে…

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

পবিপ্রবির বিজয় ২৪ হলের মোয়াজ্জেম হোসেনের অশ্রুজলে বিদায়ী সংবর্ধনা

Update Time : ১২:৫৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মে ২০২৫

রোজ ভোরে উঠতেন। আগুন ধরাতেন চুলায়, চাল বসাতেন পাত্রে। বিজয়-২৪ হলের রান্নাঘরে তখন থেকেই শুরু হতো মোয়াজ্জেম হোসেনের দিন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এই নিরব কর্মী, যিনি নিজেকে কখনো ‘বড় কিছু’ ভাবেননি—তাঁর বিদায় মুহূর্তে কেঁদেছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।

১৯৮৪ সালে যখন পবিপ্রবিতে যোগ দেন মোয়াজ্জেম, তখন অনেক কিছুই ছিল না—কাঠামো, সুবিধা, এমনকি স্থায়ী ভবনও না। কিন্তু ছিলেন তিনি। ছেলেমেয়েদের পেট ভরে খাওয়াতে পেছনের রান্নাঘরে নিঃশব্দে যাঁর যুদ্ধ, সেই মানুষটিকে বিদায় জানাতে চোখের কোণে জল ধরে রাখতে পারেননি সহকর্মীরা, শিক্ষকরা এমনকি উপাচার্যও।

২২ মে সকালে উপাচার্যের দপ্তরে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনায় প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “তিনি শুধু এক জন রান্নার কর্মী ছিলেন না, ছিলেন এক আশ্রয়—বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তরের মানুষ।”

অনুষ্ঠানে একে একে স্মৃতি রোমন্থন করেন সহকর্মীরা। কেউ বললেন, “ওনার হাতে ভাত না পেলে দুপুরটাই মাটি হয়ে যেত।” কেউবা স্মরণ করলেন—“সেই শীতের রাতে যখন অসুস্থ ছিলাম, তিনিই এনে দিয়েছিলেন গরম খিচুড়ি।”

এ যেন কর্মজীবনের শেষ দিন নয়, বরং এক ইতিহাসের শেষ অধ্যায়। আবেগে কাঁপা কণ্ঠে মোয়াজ্জেম হোসেন বললেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার পরিবার। আমি কিছু করিনি, শুধু দায়িত্ব পালন করেছি।”

তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হলো সম্মাননা স্মারক, জায়নামাজ, তসবিহ আর ভালোবাসা। বিদায়ের মুহূর্তে উপস্থিত সবাই ছিলেন নিরব কান্নার ভাগীদার।

আজ থেকে রান্নাঘরে আর শোনা যাবে না সেই চেনা হাঁক, ভাতের সেই সুবাসও যেন একটু কম লাগবে…

প্রিন্ট করুন :