রোজ ভোরে উঠতেন। আগুন ধরাতেন চুলায়, চাল বসাতেন পাত্রে। বিজয়-২৪ হলের রান্নাঘরে তখন থেকেই শুরু হতো মোয়াজ্জেম হোসেনের দিন। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) এই নিরব কর্মী, যিনি নিজেকে কখনো ‘বড় কিছু’ ভাবেননি—তাঁর বিদায় মুহূর্তে কেঁদেছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
১৯৮৪ সালে যখন পবিপ্রবিতে যোগ দেন মোয়াজ্জেম, তখন অনেক কিছুই ছিল না—কাঠামো, সুবিধা, এমনকি স্থায়ী ভবনও না। কিন্তু ছিলেন তিনি। ছেলেমেয়েদের পেট ভরে খাওয়াতে পেছনের রান্নাঘরে নিঃশব্দে যাঁর যুদ্ধ, সেই মানুষটিকে বিদায় জানাতে চোখের কোণে জল ধরে রাখতে পারেননি সহকর্মীরা, শিক্ষকরা এমনকি উপাচার্যও।
২২ মে সকালে উপাচার্যের দপ্তরে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনায় প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “তিনি শুধু এক জন রান্নার কর্মী ছিলেন না, ছিলেন এক আশ্রয়—বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তরের মানুষ।”
অনুষ্ঠানে একে একে স্মৃতি রোমন্থন করেন সহকর্মীরা। কেউ বললেন, “ওনার হাতে ভাত না পেলে দুপুরটাই মাটি হয়ে যেত।” কেউবা স্মরণ করলেন—“সেই শীতের রাতে যখন অসুস্থ ছিলাম, তিনিই এনে দিয়েছিলেন গরম খিচুড়ি।”
এ যেন কর্মজীবনের শেষ দিন নয়, বরং এক ইতিহাসের শেষ অধ্যায়। আবেগে কাঁপা কণ্ঠে মোয়াজ্জেম হোসেন বললেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার পরিবার। আমি কিছু করিনি, শুধু দায়িত্ব পালন করেছি।”
তাঁকে উপহার হিসেবে দেওয়া হলো সম্মাননা স্মারক, জায়নামাজ, তসবিহ আর ভালোবাসা। বিদায়ের মুহূর্তে উপস্থিত সবাই ছিলেন নিরব কান্নার ভাগীদার।
আজ থেকে রান্নাঘরে আর শোনা যাবে না সেই চেনা হাঁক, ভাতের সেই সুবাসও যেন একটু কম লাগবে…