ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

ঝালকাঠিতে গরু নিয়ে টানাটানি: বাছুর কোলে আদালতে গৃহবধূ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি:

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ঘিগড়া গ্রামে এক গৃহবধূর দুধেল গাভি জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। মা ছাড়া দুর্বল হয়ে পড়া এক মাস বয়সী বাছুরটিকে কোলে নিয়ে শুক্রবার ঝালকাঠি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী নারী নারগিস আক্তার (২৫)। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নারগিস জানান, তার স্বামী আবু বকর দীর্ঘদিন নিখোঁজ। গার্মেন্টসে কাজ করে কষ্ট করে একটি গাভি কেনেন তিনি। সম্প্রতি সেই গাভির একটি বাছুর জন্ম নেয়। কিন্তু হঠাৎ করে বুধবার সকালে স্থানীয় শুক্তাগড় ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল খান এসে দাবি করেন, নারগিসের স্বামী তার কাছে ৯ বছর আগে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সুদে-আসলে এখন তা ৩০ হাজার টাকা হয়েছে দাবি করে তিনি জোর করে গাভিটি নিয়ে যান।

নারগিস বলেন, “গরুটি আমি নিজের টাকায় কিনেছি সংসার চালানোর আশায়। এখন গাভি না থাকায় বাছুরটি দুধ পাচ্ছে না। সে দুর্বল হয়ে পড়েছে, বোতলে দুধ আর ভাতের মাড় খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. বেলাল খান সাংবাদিকদের বলেন, “আবু বকর ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আওতায় আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন টাকা ফেরত না পাওয়ায় গাভিটি নিয়ে এসেছি।”

এদিকে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান মুবিন বলেন, “ঘটনার সময় আদালতপাড়ায় আমি উপস্থিত ছিলাম। লিখিত অভিযোগ এখনো হাতে পাইনি। লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার তদন্ত ও গৃহবধূর অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।


 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

ঝালকাঠিতে গরু নিয়ে টানাটানি: বাছুর কোলে আদালতে গৃহবধূ

Update Time : ০৮:০২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি:

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ঘিগড়া গ্রামে এক গৃহবধূর দুধেল গাভি জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। মা ছাড়া দুর্বল হয়ে পড়া এক মাস বয়সী বাছুরটিকে কোলে নিয়ে শুক্রবার ঝালকাঠি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ভুক্তভোগী নারী নারগিস আক্তার (২৫)। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নারগিস জানান, তার স্বামী আবু বকর দীর্ঘদিন নিখোঁজ। গার্মেন্টসে কাজ করে কষ্ট করে একটি গাভি কেনেন তিনি। সম্প্রতি সেই গাভির একটি বাছুর জন্ম নেয়। কিন্তু হঠাৎ করে বুধবার সকালে স্থানীয় শুক্তাগড় ইউনিয়ন বিএনপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. বেলাল খান এসে দাবি করেন, নারগিসের স্বামী তার কাছে ৯ বছর আগে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সুদে-আসলে এখন তা ৩০ হাজার টাকা হয়েছে দাবি করে তিনি জোর করে গাভিটি নিয়ে যান।

নারগিস বলেন, “গরুটি আমি নিজের টাকায় কিনেছি সংসার চালানোর আশায়। এখন গাভি না থাকায় বাছুরটি দুধ পাচ্ছে না। সে দুর্বল হয়ে পড়েছে, বোতলে দুধ আর ভাতের মাড় খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. বেলাল খান সাংবাদিকদের বলেন, “আবু বকর ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের আওতায় আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন টাকা ফেরত না পাওয়ায় গাভিটি নিয়ে এসেছি।”

এদিকে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান মুবিন বলেন, “ঘটনার সময় আদালতপাড়ায় আমি উপস্থিত ছিলাম। লিখিত অভিযোগ এখনো হাতে পাইনি। লিখিতভাবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার তদন্ত ও গৃহবধূর অভিযোগ যাচাই করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।


 

প্রিন্ট করুন :