মহিলা-পুরুষ মিলেই চলছে পশু মোটাতাজাকরণ, বাজারের দিকে নজর সবার
মোঃ সজিব সরদার, দুমকি (পটুয়াখালী):
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় কোরবানিকে ঘিরে জমে উঠেছে গরু মোটাতাজাকরণের ধুম। উৎসবের রঙ ছুঁয়ে গেছে খামারগুলোকে—পশু পালনে যেন এক নতুন প্রত্যয়ের জন্ম নিয়েছে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে গরুর পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার প্রস্তুতির তোড়জোড়।
একসময় যারা ছিলেন কর্মহীন, তাদের অনেকেই এখন সফল খামারি। কেউ বছরের শুরুতেই পশু কিনে লালন করছেন, কেউবা মৌসুমি উদ্যোগ নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন কোরবানির বড় বাজারের জন্য। শুধু পুরুষ নয়, নারীরাও ঘরের কাজের পাশাপাশি গরু-ছাগল দেখভাল করে বাড়তি আয় নিশ্চিত করছেন।
“গরু মানেই সন্তানের মতো যত্ন”
দুমকি নতুন বাজারের “ভাই-বোন এগ্রো ফার্ম”-এর মালিক সহিদুল ইসলাম সরদার বলেন,
“আমার খামারে এবার ১২টি শাহিওয়াল জাতের গরু রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি গরু পুরোপুরি বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছে। প্রতিটি গরুকেই সন্তানের মতো যত্ন করি।”
তিনি জানান, পশুদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে ধানের কুড়া, গম ও ভূট্টার গুঁড়া, ঘাস, খড় ও উন্নতমানের ফিড—যা দ্রুত পশুর ওজন বাড়াতে সহায়ক।
শ্রীরামপুরের খামারি ফোরকান মৃধা বলেন,
“দেশি গরুর কদর এখনো বেশি। আমরা নিজের হাতে যত্ন নিই, রোগমুক্ত রাখি—এই মনোভাবই আমাদের গরু বিক্রিতে বাড়তি সুবিধা দেয়।”
অপর এক খামারি রুহুল আমিন মৃধা জানালেন,
“গত বছর ৭০ হাজারে গরু কিনে পালছি। এবার তার দাম ১ লাখ ৭০ হাজার উঠবে বলেই মনে হচ্ছে। এতে সংসার চালাতে সুবিধা হচ্ছে, সঞ্চয়ও করতে পারছি।”
বছরজুড়ে পরিকল্পনা, ঈদে অর্থকরী ফসল
দুমকির পাঁচটি ইউনিয়নে বহু খামারি বছরের শুরুতেই গরু ও ছাগল কিনে পালন শুরু করেন। অনেকে বর্গা ভিত্তিতে অন্যের ঘরে পশু লালন করান। সারাবছর ধরে লালন-পালনের পর কোরবানিতে বিক্রি করে পান দ্বিগুণ লাভ।
খামারিরা এখন কেবল ঘাস বা খড়েই সীমাবদ্ধ নন। তারা জেনে বুঝে আধুনিক ফিড যেমন—খৈল, ভূট্টা, খামার প্রস্তুত ফিড ইত্যাদি ব্যবহার করছেন। এতে গরুর স্বাস্থ্য ভালো থাকছে, বাড়ছে ওজন, আর চাহিদাও মিলছে শহরের পাইকারদের কাছ থেকে।
নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে, নজর প্রাণিসম্পদ বিভাগের
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আশিক হাজরা বলেন,
“কোরবানিকে কেন্দ্র করে খামারিরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নারীদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আমরা খামারিদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ, টিকা ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান,
“কোরবানির বাজারে যেন কোনো অসুস্থ পশু না উঠে, সেজন্য মেডিকেল টিম ও মনিটরিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী দেশীয় পশুই যথেষ্ট হবে—আমরা আত্মনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”
শেষ কথায়
ঈদের আগে এমন ব্যস্ততা দুমকির মতো একটি উপজেলাকে শুধু কোরবানির অর্থনীতিতে নয়, দীর্ঘমেয়াদে একটি আত্মনির্ভরশীল কৃষি ও খামারি জনপদে পরিণত করছে। পশু মোটাতাজাকরণ এখন শুধু একটি মৌসুমি প্রস্তুতি নয়, এটি হয়ে উঠছে স্বাবলম্বীতার দৃশ্যমান উদাহরণ।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 

























