ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

জুলাই বিপ্লবে শহিদ শ্রাবণ গাজীর মরদেহ উত্তোলনে বাধা, সিআইডির দল ফিরল খালি হাতে

সাভার প্রতিবেদক||

শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় অনুভূতির কারণে সাভারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী শ্রাবণ গাজীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করতে দেয়নি তার পরিবার। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের আপত্তির মুখে সিআইডি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে আদালতের নির্দেশে আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তারের নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল ময়নাতদন্তের জন্য ডেইরি ফার্ম আবাসিক এলাকার কবরস্থান থেকে শ্রাবণ গাজীর মরদেহ উত্তোলনে যায়।

তবে খবর পেয়ে দ্রুত কবরস্থানে পৌঁছান শহীদ শ্রাবণের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা ধর্মীয় অনুভূতির কথা জানিয়ে মরদেহ উত্তোলনে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে আসে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বাধীন সিআইডির দল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তার বলেন, “আদালতের নির্দেশে আমরা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পরিবারের অনিচ্ছা ও ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে আমরা মরদেহ উত্তোলন থেকে বিরত থাকছি। আদালতকে এ বিষয়ে যথাযথভাবে জানানো হবে।”

শ্রাবণ গাজী ছিলেন মালয়েশিয়ার টুঙ্কু আব্দুল রহমান ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ১৬ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন এবং ৫ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা অভিমুখে আয়োজিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

সাভারে পদযাত্রাটি পৌঁছালে হঠাৎ একটি গুলি এসে শ্রাবণের মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর শ্রাবণের বাবা মান্নান গাজী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

গণঅভ্যুত্থানে প্রথম গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো তরুণ হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান শহীদ শ্রাবণ গাজী।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

জুলাই বিপ্লবে শহিদ শ্রাবণ গাজীর মরদেহ উত্তোলনে বাধা, সিআইডির দল ফিরল খালি হাতে

Update Time : ১০:২৭:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ মে ২০২৫

সাভার প্রতিবেদক||

শ্রদ্ধা ও ধর্মীয় অনুভূতির কারণে সাভারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থী শ্রাবণ গাজীর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করতে দেয়নি তার পরিবার। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের আপত্তির মুখে সিআইডি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দল ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসে।

বুধবার (৬ মে) দুপুরে আদালতের নির্দেশে আশুলিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তারের নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল ময়নাতদন্তের জন্য ডেইরি ফার্ম আবাসিক এলাকার কবরস্থান থেকে শ্রাবণ গাজীর মরদেহ উত্তোলনে যায়।

তবে খবর পেয়ে দ্রুত কবরস্থানে পৌঁছান শহীদ শ্রাবণের পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তারা ধর্মীয় অনুভূতির কথা জানিয়ে মরদেহ উত্তোলনে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মরদেহ উত্তোলন না করেই ফিরে আসে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বাধীন সিআইডির দল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া আক্তার বলেন, “আদালতের নির্দেশে আমরা যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পরিবারের অনিচ্ছা ও ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে আমরা মরদেহ উত্তোলন থেকে বিরত থাকছি। আদালতকে এ বিষয়ে যথাযথভাবে জানানো হবে।”

শ্রাবণ গাজী ছিলেন মালয়েশিয়ার টুঙ্কু আব্দুল রহমান ইউনিভার্সিটি অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ১৬ জুলাই তিনি দেশে ফেরেন এবং ৫ আগস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা অভিমুখে আয়োজিত ‘মার্চ টু ঢাকা’ পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

সাভারে পদযাত্রাটি পৌঁছালে হঠাৎ একটি গুলি এসে শ্রাবণের মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর শ্রাবণের বাবা মান্নান গাজী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

গণঅভ্যুত্থানে প্রথম গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারানো তরুণ হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান শহীদ শ্রাবণ গাজী।

 

প্রিন্ট করুন :