ঢাকা ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর খুলনায় র‌্যাবের অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার,গ্রেপ্তার-৪ ইয়াবাসহ আটকের পর ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার সাপে কামড়ের পর অ্যান্টিভেনম না দিয়ে রেফার, পথে অ্যাম্বুলেন্সে মৃত্যু  সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে লড়াই, ঘরভাড়া দিতে চুল বিক্রি করলেন রেহানা ধর্মপাশায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু পটুয়াখালীর দুমকিতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা, আটক ১ পাবনায় গোপন কক্ষে চোরাই গরু, পুলিশের হাতে আটক-১ ‘বাবা কোথায়?’—জুলাই শহীদের মেয়ের প্রশ্ন, স্ত্রী চান বিচার ও চাকরি শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযান, এসকাফ সিরাপসহ আটক-১

নিকুঞ্জে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ

রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে এবার নিজ উদ্যোগেই এই যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকাবাসী।

গত ৩০ এপ্রিল এক স্কুলশিক্ষার্থীর মারাত্মক আহত হওয়ার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নেন।

নিকুঞ্জ-২, টানপাড়া ও জামতলা এলাকার বাসিন্দারা জানান, অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এসব রিকশার চালকদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক, প্রশিক্ষণহীন এবং অনেকেই মাদকাসক্ত। বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই রাস্তায় চলা এসব যানবাহনের কারণে বিগত ছয় মাসে এলাকাটিতে ঘটেছে কয়েক ডজন দুর্ঘটনা। শিশু ও শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা বারবার দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা তাসবির ইকবাল বলেন, “গুলশানের পরে এবার আমরা নিকুঞ্জে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এসব অটোরিকশা চলতে দেব না। অতিরিক্ত যানজট, শব্দদূষণ ও দুর্ঘটনা আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এখন আর চুপ করে থাকা নয়।”

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, নিকুঞ্জ এলাকায় সাতটিরও বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজ থেকে প্রতিদিন রাস্তায় নামে প্রায় ২০০ এর বেশি অটোরিকশা। কোনো তদারকি না থাকায় দিন দিন রিকশার সংখ্যা বাড়ছে, যা জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। অচিরেই এসব রিকশা তৈরির ওয়ার্কশপ ও চার্জিং স্টেশন বন্ধেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এলাকাবাসীরা বলছেন, যতক্ষণ না এসব গ্যারেজ নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে এবং আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই অটোরিকশা বন্ধের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যেন পুরো নগরজুড়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ যান নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

খুলনায় ঘর কেড়ে নিয়েছে নদী,স্বপ্ন কেড়ে নিচ্ছে শহর

নিকুঞ্জে এলাকাবাসীর উদ্যোগে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ

Update Time : ১০:২৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ মে ২০২৫

রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে এবার নিজ উদ্যোগেই এই যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন এলাকাবাসী।

গত ৩০ এপ্রিল এক স্কুলশিক্ষার্থীর মারাত্মক আহত হওয়ার ঘটনায় চরম ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই সিদ্ধান্ত নেন।

নিকুঞ্জ-২, টানপাড়া ও জামতলা এলাকার বাসিন্দারা জানান, অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাগুলো দীর্ঘদিন ধরে জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এসব রিকশার চালকদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক, প্রশিক্ষণহীন এবং অনেকেই মাদকাসক্ত। বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই রাস্তায় চলা এসব যানবাহনের কারণে বিগত ছয় মাসে এলাকাটিতে ঘটেছে কয়েক ডজন দুর্ঘটনা। শিশু ও শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা বারবার দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা তাসবির ইকবাল বলেন, “গুলশানের পরে এবার আমরা নিকুঞ্জে নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এসব অটোরিকশা চলতে দেব না। অতিরিক্ত যানজট, শব্দদূষণ ও দুর্ঘটনা আমাদের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এখন আর চুপ করে থাকা নয়।”

এলাকাবাসীদের অভিযোগ, নিকুঞ্জ এলাকায় সাতটিরও বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজ থেকে প্রতিদিন রাস্তায় নামে প্রায় ২০০ এর বেশি অটোরিকশা। কোনো তদারকি না থাকায় দিন দিন রিকশার সংখ্যা বাড়ছে, যা জনসাধারণের চলাচলে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করছে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উচ্ছেদে যৌথ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। অচিরেই এসব রিকশা তৈরির ওয়ার্কশপ ও চার্জিং স্টেশন বন্ধেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এলাকাবাসীরা বলছেন, যতক্ষণ না এসব গ্যারেজ নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে এবং আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে, ততক্ষণ তাদের এই অটোরিকশা বন্ধের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যেন পুরো নগরজুড়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ যান নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

 

প্রিন্ট করুন :