পটুয়াখালী সদর উপজেলার বড়বিঘাই ইউনিয়নে রিজিয়া বেগম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিহত রিজিয়া বেগমের বড় ছেলে খোকন হাওলাদার ওরফে ইউসুফকে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ১০ মার্চ সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টার মধ্যে রিজিয়া বেগম নিজ বাড়িতে নির্মমভাবে খুন হন। এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরদিন নিহতের ভাই শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে জেলা পুলিশের একাধিক টিম তদন্তে নামে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজলের নেতৃত্বে প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে গত শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে ইউসুফকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ভারি তক্তা এবং একটি কাঠের হাতলযুক্ত দা জব্দ করা হয়।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ হত্যার দায় স্বীকার করে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। সে জানায়, মায়ের অবৈধ সম্পর্ক, আপন বোনকে বিষ প্রয়োগে হত্যার অভিযোগ এবং বাবাকে নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে সে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার আগের দিন গাজীপুর থেকে পটুয়াখালীতে এসে ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান করে। ঘটনার রাতে বাবা বাড়িতে না থাকার সুযোগে মায়ের মাথায় ভারি তক্তা দিয়ে আঘাত করে এবং পরে দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।
পরে আদালতে তোলা হলে ইউসুফ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, রিজিয়া বেগম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে এবং দায়ী আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 
























