ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

মায়ের সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ, বাবাকে মোবাইল উপহার! দুমকীতে শিশুকে নিয়ে উধাও

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২৬ Time View

দুমকিতে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগ, আট ঘণ্টায় উদ্ধার; গ্রেপ্তার ১

মোঃ জাহিদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফেসবুকে শিশুটির মায়ের সঙ্গে পরিচয়। পরে পরিবারের সঙ্গে গড়ে ওঠে যোগাযোগ। একপর্যায়ে পটুয়াখালীর দুমকীর মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে বেড়াতে এসে শিশুটির বাবাকে উপহার দেন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন। এর কয়েক দিন পর সেই শিশুকেই খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

প্রায় আট ঘণ্টা পর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. শাহ জামাল (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শাহ জামাল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সৌদি আরবপ্রবাসী এবং প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফেরেন। প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে থাকাকালে ফেসবুকের মাধ্যমে শিশুটির মায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। দেশে ফেরার পরও ওই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল।

পুলিশের ভাষ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাহ জামাল শিশুটির বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় শিশুটির বাবা মো. নেছার উদ্দিনকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উপহার দেন। এর মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে তাঁর আরও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর কয়েক দিন পর শুক্রবার বিকেলে শিশুটির বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পরিবারের অগোচরে ওই মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান শাহ জামাল—এমন দাবি পুলিশের। পরে শিশুটিকে খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে পাশের একটি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে নিয়ে যান তিনি। সেখানে শিশুটিকে সঙ্গে যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে পুলিশের প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর শিশুটিকে দুমকি থানার পাগলা মোড়ের বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে বাসে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন শাহ জামাল ও শিশুটি।

এদিকে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শাহ জামালের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি দুমকি থানায় জানান তাঁরা।

এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে দুমকি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল শিশুটির সন্ধানে নামে। পাগলা মোড়, পায়রা সেতুর টোল প্লাজাসহ আশপাশের এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে শিশুটিকে উদ্ধারে দুমকি থানার একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবি-১০-এর সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় শাহ জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. নেছার উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ অক্টোবর দুমকি থানায় মামলা করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর (সংশোধনী-২০২৫) ৭/৩০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

পুলিশের প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ জামাল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মামলার তদন্ত এখনো চলছে। শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত বা সহযোগিতা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজলের স্বাক্ষরিত প্রেস রিলিজে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

মায়ের সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ, বাবাকে মোবাইল উপহার! দুমকীতে শিশুকে নিয়ে উধাও

Update Time : ০৮:২০:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

দুমকিতে ১২ বছরের শিশুকে অপহরণের অভিযোগ, আট ঘণ্টায় উদ্ধার; গ্রেপ্তার ১

মোঃ জাহিদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ফেসবুকে শিশুটির মায়ের সঙ্গে পরিচয়। পরে পরিবারের সঙ্গে গড়ে ওঠে যোগাযোগ। একপর্যায়ে পটুয়াখালীর দুমকীর মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডে বেড়াতে এসে শিশুটির বাবাকে উপহার দেন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন। এর কয়েক দিন পর সেই শিশুকেই খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

প্রায় আট ঘণ্টা পর ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. শাহ জামাল (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার শাহ জামাল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা। তিনি সৌদি আরবপ্রবাসী এবং প্রায় তিন মাস আগে দেশে ফেরেন। প্রায় চার বছর আগে সৌদি আরবে থাকাকালে ফেসবুকের মাধ্যমে শিশুটির মায়ের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। দেশে ফেরার পরও ওই পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল।

পুলিশের ভাষ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর শাহ জামাল শিশুটির বাড়িতে বেড়াতে যান। এ সময় শিশুটির বাবা মো. নেছার উদ্দিনকে একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উপহার দেন। এর মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে তাঁর আরও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর কয়েক দিন পর শুক্রবার বিকেলে শিশুটির বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় পরিবারের অগোচরে ওই মোবাইল ফোনটি নিয়ে যান শাহ জামাল—এমন দাবি পুলিশের। পরে শিশুটিকে খাবার কিনে দেওয়ার কথা বলে পাশের একটি অটোরিকশা স্ট্যান্ডে নিয়ে যান তিনি। সেখানে শিশুটিকে সঙ্গে যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে পুলিশের প্রেস রিলিজে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর শিশুটিকে দুমকি থানার পাগলা মোড়ের বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে বাসে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন শাহ জামাল ও শিশুটি।

এদিকে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা শাহ জামালের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিষয়টি দুমকি থানায় জানান তাঁরা।

এরপর পুলিশ সুপারের নির্দেশে দুমকি থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল শিশুটির সন্ধানে নামে। পাগলা মোড়, পায়রা সেতুর টোল প্লাজাসহ আশপাশের এলাকার শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে শিশুটিকে উদ্ধারে দুমকি থানার একটি দল ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এসআরবি-১০-এর সহায়তায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় শাহ জামালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা মো. নেছার উদ্দিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৩ অক্টোবর দুমকি থানায় মামলা করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর (সংশোধনী-২০২৫) ৭/৩০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে।

পুলিশের প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ জামাল ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মামলার তদন্ত এখনো চলছে। শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত বা সহযোগিতা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজলের স্বাক্ষরিত প্রেস রিলিজে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রিন্ট করুন :