ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

তুচ্ছ বিরোধে উত্তপ্ত ববি, ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭২ Time View

 

বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের দরজায় ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের জেরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে এতে কেমিস্ট্রি এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়েন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ছাতিমতলা এলাকায় কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার একটি মেসের দরজায় ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৈকতের সঙ্গে অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোভন ও আজমের কথা-কাটাকাটি হয়। জুনিয়র শিক্ষার্থী হয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে দরজায় ছিটকিনি লাগানোর বিষয়ে বলাকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে সৈকতকে গালাগাল করে মেস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অর্থনীতি ও কেমিস্ট্রি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালান এবং কয়েকটি বাসায় তালা লাগিয়ে দেন। পরে তালা খুলে দেওয়া ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতা চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ছাতিমতলা এলাকার একটি দোকানে দুই পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আলোচনায় বসেন। একপর্যায়ে সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কেমিস্ট্রি এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশ্রাফুল বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অর্থনীতি ও কেমিস্ট্রি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সৈকতসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি প্রক্টরকে জানানো হলে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে তালা খুলে দেওয়ার কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার দিকে তারা তালা খুলতে গেলে সেখানে একটি পেরেক মারা দেখতে পান। পরে মেসের মালিককে ডাকা হলেও তিনি নামাজে থাকায় মেসের আরিফকে ডাকা হয়। এ সময় উচ্চস্বরে কথা বলার পর তারা সেখান থেকে চলে যান। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষের পাঁচজন করে বসার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ইসলামী ব্যাংকের নিচে বসে থাকার সময় কেমিস্ট্রি ও অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে অর্থনীতি ও কেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, “দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন কি না কিংবা এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

তুচ্ছ বিরোধে উত্তপ্ত ববি, ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ

Update Time : ০২:০১:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

বরিশাল প্রতিনিধিঃ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন একটি মেসের দরজায় ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের জেরে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরে এতে কেমিস্ট্রি এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও জড়িয়ে পড়েন।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ছাতিমতলা এলাকায় কয়েক দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওই এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার একটি মেসের দরজায় ছিটকিনি লাগানোকে কেন্দ্র করে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৈকতের সঙ্গে অর্থনীতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সোভন ও আজমের কথা-কাটাকাটি হয়। জুনিয়র শিক্ষার্থী হয়ে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীকে দরজায় ছিটকিনি লাগানোর বিষয়ে বলাকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। একপর্যায়ে সৈকতকে গালাগাল করে মেস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অর্থনীতি ও কেমিস্ট্রি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাসায় গিয়ে তল্লাশি চালান এবং কয়েকটি বাসায় তালা লাগিয়ে দেন। পরে তালা খুলে দেওয়া ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য প্রক্টরিয়াল বডির সহযোগিতা চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার জন্য ছাতিমতলা এলাকার একটি দোকানে দুই পক্ষের কয়েকজন শিক্ষার্থী আলোচনায় বসেন। একপর্যায়ে সেখানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

 

এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সমাজবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কেমিস্ট্রি এবং মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আশ্রাফুল বলেন, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অর্থনীতি ও কেমিস্ট্রি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সৈকতসহ কয়েকজন শিক্ষার্থীর বাসায় তল্লাশি চালিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন। বিষয়টি প্রক্টরকে জানানো হলে তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে তালা খুলে দেওয়ার কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার দিকে তারা তালা খুলতে গেলে সেখানে একটি পেরেক মারা দেখতে পান। পরে মেসের মালিককে ডাকা হলেও তিনি নামাজে থাকায় মেসের আরিফকে ডাকা হয়। এ সময় উচ্চস্বরে কথা বলার পর তারা সেখান থেকে চলে যান। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষের পাঁচজন করে বসার সিদ্ধান্ত হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ইসলামী ব্যাংকের নিচে বসে থাকার সময় কেমিস্ট্রি ও অর্থনীতি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এ বিষয়ে অর্থনীতি ও কেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষার্থীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দুই পক্ষের শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. গাজী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, “দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন কি না কিংবা এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রিন্ট করুন :