পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা দেওয়ার পর ১৪ দিনেও স্বাভাবিক হয়নি পরিষদের কার্যক্রম। এতে ইউনিয়নের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানা গেছে।
প্যানেল চেয়ারম্যান আলেয়া বেগমের অপসারণের দাবিতে স্থানীয় কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা আন্দোলন শুরু করার পর ইউনিয়ন পরিষদে এই অচলাবস্থা তৈরি হয়। আন্দোলনের একপর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের পর ইউপি চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা।
এরপর থেকে নিয়মিত অফিস করতে পারছেন না প্যানেল চেয়ারম্যান আলেয়া বেগম। ফলে পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
আলেয়া বেগমের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের ভোটে নিয়ম মেনেই তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন এবং দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি বলেন, একটি মহল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ভাগ-বাটোয়ারার প্রস্তাব দিয়েছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মব তৈরি করে সরকারি কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, এর আগে তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
তবে আন্দোলনকারীদের দাবি, প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়মিত অফিস করতেন না এবং দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে তার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া উপজেলা যুবদলের নেতা শাহিন রেজা বলেন, সাধারণ মানুষ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে পরিষদে তালা দিয়েছেন। স্থানীয় জনগণের যৌক্তিক আন্দোলনের প্রতি তিনি সমর্থন জানিয়েছেন।
১৩ নম্বর আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে কয়েক দিন ধরে প্যানেল চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা চেয়ারম্যানের কক্ষে তালা দেন।
এ বিষয়ে অন-রেকর্ড মন্তব্য করতে রাজি হননি বাউফলের ইউএনও সালেহ আহমেদ। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে। উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মোঃ রিয়াজুল ইসলাম 




















