ঢাকা ০৭:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

গলাচিপায় খাস জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ২৫

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি খাস জমি দখল ও চাষাবাদকে ঘিরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা এলাকায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চরবাংলা এলাকার খাস জমিকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আনোয়ার হাওলাদার গ্রুপ এবং বিত্তহীন কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি সিরাজ খা গ্রুপের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কয়েকদিন আগে সমঝোতা হলেও বৃহস্পতিবার তরমুজ চাষ ও ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আহত জালাল তালুকদারের অভিযোগ, ভূমি অফিস থেকে ইজারা পাওয়া জমিতে চাষ দিতে গেলে চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান ও ওয়ার্ড সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার নেতৃত্বে বাধা দেন। তাঁর দাবি, “শনিবার ইউএনও ও ওসি উভয় পক্ষকে নিয়ে জমি ভাগাভাগি করে দেন। আজ আমরা চাষে গেলে তারা হামলা চালায়।”

অন্য আহত সাহাবুদ্দিন তালুকদার জানান, তাঁরা প্রায় তিন দশক ধরে চরবাংলায় বসবাস করছেন এবং ১৫৫ জন কৃষককে সরকার ইজারা দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা তাঁদের জমিতে চাষ করতে দিচ্ছেন না।

অন্যদিকে, আনোয়ার হাওলাদারের দাবি, তাঁদের ঘর ওই জায়গায় ছিল। “অন্যরা ঘর তুলতে গেলে আমরা নিষেধ করি। এরপর সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে,” বলেন তিনি। চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি ঘটনার সময় দশমিনায় ছিলেন এবং প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

গলাচিপা থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বলেন, খাস জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগেই বিরোধ ছিল। “একপক্ষ ইজারা পেয়েছে, অন্যপক্ষ চাষের অনুমতি পেয়েছে। তরমুজ ক্ষেতের ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিরোধীয় জমি নিয়ে শনিবার দুই পক্ষের উপস্থিতিতেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। যারা সিদ্ধান্ত ভেঙে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গলাচিপার জনজীবন সংঘর্ষের ঘটনায় কিছুটা আতঙ্কিত হলেও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

গলাচিপায় খাস জমি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ২৫

Update Time : ১১:০৮:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি খাস জমি দখল ও চাষাবাদকে ঘিরে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা এলাকায় এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চরবাংলা এলাকার খাস জমিকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আনোয়ার হাওলাদার গ্রুপ এবং বিত্তহীন কৃষক সমবায় সমিতির সভাপতি সিরাজ খা গ্রুপের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছিল। উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কয়েকদিন আগে সমঝোতা হলেও বৃহস্পতিবার তরমুজ চাষ ও ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আহত জালাল তালুকদারের অভিযোগ, ভূমি অফিস থেকে ইজারা পাওয়া জমিতে চাষ দিতে গেলে চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান ও ওয়ার্ড সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার নেতৃত্বে বাধা দেন। তাঁর দাবি, “শনিবার ইউএনও ও ওসি উভয় পক্ষকে নিয়ে জমি ভাগাভাগি করে দেন। আজ আমরা চাষে গেলে তারা হামলা চালায়।”

অন্য আহত সাহাবুদ্দিন তালুকদার জানান, তাঁরা প্রায় তিন দশক ধরে চরবাংলায় বসবাস করছেন এবং ১৫৫ জন কৃষককে সরকার ইজারা দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা তাঁদের জমিতে চাষ করতে দিচ্ছেন না।

অন্যদিকে, আনোয়ার হাওলাদারের দাবি, তাঁদের ঘর ওই জায়গায় ছিল। “অন্যরা ঘর তুলতে গেলে আমরা নিষেধ করি। এরপর সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়েছে,” বলেন তিনি। চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি ঘটনার সময় দশমিনায় ছিলেন এবং প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

গলাচিপা থানার ওসি মো. আশাদুর রহমান বলেন, খাস জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগেই বিরোধ ছিল। “একপক্ষ ইজারা পেয়েছে, অন্যপক্ষ চাষের অনুমতি পেয়েছে। তরমুজ ক্ষেতের ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিরোধীয় জমি নিয়ে শনিবার দুই পক্ষের উপস্থিতিতেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল। যারা সিদ্ধান্ত ভেঙে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গলাচিপার জনজীবন সংঘর্ষের ঘটনায় কিছুটা আতঙ্কিত হলেও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

প্রিন্ট করুন :