ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

পবিপ্রবিতে গৌরবময় আবেগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

৫ অগস্ট — ইতিহাসের আবেগে ভেসে উঠল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) চত্বর। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা আয়োজনে পালিত হল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী — সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি পরিণত হয় স্মৃতিচারণ ও প্রেরণার মেলায়।

সকাল সাড়ে ৯টা। প্রশাসনিক ভবন চত্বরে জমায়েত জনসমুদ্র। উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বের হল বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি। সঙ্গে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পতাকা, প্ল্যাকার্ড হাতে শ্লোগানে মুখরিত ক্যাম্পাস ঘুরে র‌্যালি পৌঁছয় টি.এস.সি কনফারেন্স হলে।

সাড়ে ১০টায় শুরু হয় আলোচনা সভা — শিরোনাম, ‘জুলাই ২৪ গণঅভ্যুত্থান ও অগ্রগতির পটভূমি’। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি তারিখ নয়। গণতন্ত্রের জন্য রক্ত, চোখের জল, আর অনমনীয় সাহসের প্রতীক। আমি নিজে সেই উত্তাল সময়ের অংশীদার ছিলাম। আজকের তরুণ প্রজন্ম ইতিহাস জানতে চায়, সত্যকে আঁকড়ে ধরতে চায় — এটাই আমার প্রেরণা।”

তিনি আরও যোগ করেন, “২৪ জুলাইয়ের চেতনা আমাদের সামনে সততা, সাহস ও দেশপ্রেমের শিক্ষা হয়ে থাকুক। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক আত্মত্যাগের এই বার্তা।”

সভায় বিশেষ অতিথি প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুল লতিফ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধের ওপর জোর দেন। উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন, উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. মুহসিন হোসেন খান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও প্রভাষকবৃন্দ।

দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাট্যপ্রদর্শন। দেশপ্রেম আর গণআন্দোলনের চেতনা-ভরা গান, আবৃত্তি, নাটক — ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দিল এক অন্য রকম আবেগ। শেষে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার।

দিনভর কর্মসূচি শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের চোখেমুখে তখনও ইতিহাসের গর্ব আর সংগ্রামের দীপ্তি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

পবিপ্রবিতে গৌরবময় আবেগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

Update Time : ০৬:১৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ||

৫ অগস্ট — ইতিহাসের আবেগে ভেসে উঠল পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) চত্বর। মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নানা আয়োজনে পালিত হল ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী — সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দিনটি পরিণত হয় স্মৃতিচারণ ও প্রেরণার মেলায়।

সকাল সাড়ে ৯টা। প্রশাসনিক ভবন চত্বরে জমায়েত জনসমুদ্র। উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে বের হল বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি। সঙ্গে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পতাকা, প্ল্যাকার্ড হাতে শ্লোগানে মুখরিত ক্যাম্পাস ঘুরে র‌্যালি পৌঁছয় টি.এস.সি কনফারেন্স হলে।

সাড়ে ১০টায় শুরু হয় আলোচনা সভা — শিরোনাম, ‘জুলাই ২৪ গণঅভ্যুত্থান ও অগ্রগতির পটভূমি’। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপাচার্য বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল একটি তারিখ নয়। গণতন্ত্রের জন্য রক্ত, চোখের জল, আর অনমনীয় সাহসের প্রতীক। আমি নিজে সেই উত্তাল সময়ের অংশীদার ছিলাম। আজকের তরুণ প্রজন্ম ইতিহাস জানতে চায়, সত্যকে আঁকড়ে ধরতে চায় — এটাই আমার প্রেরণা।”

তিনি আরও যোগ করেন, “২৪ জুলাইয়ের চেতনা আমাদের সামনে সততা, সাহস ও দেশপ্রেমের শিক্ষা হয়ে থাকুক। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ুক আত্মত্যাগের এই বার্তা।”

সভায় বিশেষ অতিথি প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান ও কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুল লতিফ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ববোধের ওপর জোর দেন। উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. ইকতিয়ার উদ্দিন, উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মো. মুহসিন হোসেন খান, বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও প্রভাষকবৃন্দ।

দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া-মোনাজাত হয়। বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাট্যপ্রদর্শন। দেশপ্রেম আর গণআন্দোলনের চেতনা-ভরা গান, আবৃত্তি, নাটক — ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে দিল এক অন্য রকম আবেগ। শেষে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার।

দিনভর কর্মসূচি শেষ হলেও অংশগ্রহণকারীদের চোখেমুখে তখনও ইতিহাসের গর্ব আর সংগ্রামের দীপ্তি।

প্রিন্ট করুন :