সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি||
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের উত্তর আমখোলা গ্রামে ধানক্ষেত বাঁচানোর অজুহাতে ভাঙা হলো বাবুই পাখির অন্তত অর্ধশত বাসা। নষ্ট হলো প্রায় ২০টি ডিমও।
বুধবার (৩০ জুলাই) দুপুরে জৈনপুরি খানকা সংলগ্ন একটি মাদ্রাসা ও স্থানীয় মাহাবুব মাস্টারের বাড়ির পাশে থাকা দুটি তালগাছ থেকে ঝুলন্ত বাসাগুলো একে একে ভেঙে ফেলেন স্থানীয় সিদ্দিক মোল্লা। তিনি ওই গ্রামের চানু মোল্লার ছেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের ধানক্ষেতের ক্ষতির আশঙ্কায় তিনি বাবুই পাখির বাসা নষ্ট করেন। প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসাছাত্র হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা বারবার বারণ করলেও তিনি শোনেননি। বহু বছর ধরে এই তালগাছগুলো বাবুই পাখির নিরাপদ আশ্রয় ছিল।”
পরিবেশবাদীরা বলছেন, এ ঘটনা শুধু একটি নিরীহ পাখির প্রাণহানি নয়, প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপরও আঘাত। স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ সংগঠন Animal Lovers Of Patuakhali (ALP) ও Voice For Voiceless এক যৌথ বিবৃতিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। তাদের ভাষায়, “এ ধরনের নৃশংসতা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”
গলাচিপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল কুমার দাস বলেন, “বন্যপ্রাণী ও পাখি নিধন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এর ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”
গলাচিপা থানার ওসি মো. আসাদুর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সিদ্দিক মোল্লার বক্তব্য পাওয়ার জন্য বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















