তারিকুল তাজ, নিজস্ব প্রতিনিধি , কক্সবাজার
মহেশখালী—প্রতারণার পথ ধরে পেরিয়ে এলেন বছর কয়েক, পড়ালেখার মন্দিরে ঢুকলেন গুরুজনের আসনে। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। ভুয়া শিক্ষক নিবন্ধন সনদ (NTRCA) নিয়ে শিক্ষকতার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বহিষ্কার হলেন কক্সবাজারের মহেশখালীর জে.এম.ঘাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (বাংলা) তোয়াহার উদ্দিন।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশে জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগকারী, অভিযুক্ত, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি, প্রধান শিক্ষক এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—তোয়াহার উদ্দিনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ আসল নয়, বরং নিখুঁতভাবে সাজানো একটি জাল দলিল! অথচ এই সনদ দিয়েই তিনি সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। যা প্রতারণা ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আর দেরি করেনি। সেদিনই বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে আরেকটি কালো দিক—বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও তহবিল আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। তদন্ত কমিটি সুপারিশ করেছে পূর্ণাঙ্গ আর্থিক অডিটের।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার মান ও মর্যাদা রক্ষায় ভুয়া সনদধারীদের স্থান নেই। তাই কঠোর সিদ্ধান্তই নিতে হয়েছে।”
প্রধান শিক্ষক মো. কাইচার লিটন জানান, “এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কঠোরতা বাড়ানো হবে।”
এ ঘটনায় জেলা শিক্ষা অফিস আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করেছে।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 



















