ঢাকা ০৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরগুনায় মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে বরিশালে আনসার-ভিডিপির বৃক্ষরোপণ অভিযান ও চারা বিতরণ  পটুয়াখালীতে বিএনপির সমাবেশ-মিছিল, সন্ত্রাস-নৈরাজ্য প্রতিহতের ঘোষণা রিজভীকে পবিপ্রবি জিয়া পরিষদের শুভেচ্ছা দুমকীতে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক দেলোয়ার খান ‎ ‎ মহিপুরে আপন বোনসহ চার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ, লিটার প্রতি দাম বাড়ল ২০ টাকা পবিপ্রবির নেতৃত্বে জিএসটি ভর্তি পরীক্ষা, প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময় পটুয়াখালীতে বাস-ইজিবাইকের সংঘর্ষে নিহত ৪

ওয়াশরুমের অজুহাতে পরীক্ষার হলে প্রবেশ, এরপর প্রশ্নের উত্তর বিতরণ!

তারিকুল তাজ, কক্সবাজার প্রতিনিধি ||

চলমান এইচএসসি পরীক্ষার ভেতরেই ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর অনিয়ম। কক্সবাজার জেলার চকরিয়া সিটি কলেজ কেন্দ্রে অভিযুক্ত একজন ভিজিলেন্স সদস্য—যিনি কিনা শিক্ষাপরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, তিনিই এবার প্রশ্ন ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে।

অভিযুক্ত ডুলাহাজারা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিদ্যার জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হুমায়ুন কবির। জানা গেছে, তিনি ১০ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ভিজিলেন্স টিমের সদস্য হিসেবে চকরিয়া সিটি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। তিনদিন পর, ১৩ জুলাই, তাঁকে আবারও দেখা যায় ওই একই কেন্দ্রের ৩০৩ নম্বর কক্ষে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করতে।

কিন্তু মূল বিস্ময়ের শুরু তখন, যখন পদার্থবিদ্যার এমসিকিউ পরীক্ষা চলাকালীন হুমায়ুন কবির নিচ তলার ১০১ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেখানে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেখে সঠিক উত্তর বলে দিতে শুরু করেন।

এক শিক্ষার্থী জানান, “স্যার কক্ষে ঢুকে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর বলে দিলেন। আমরা তো অবাক!”

অন্য কক্ষ পরিদর্শকদের অনেকেই এই ঘটনা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারকে জানানো হয়। পরে তাঁকে ভর্ৎসনা করে নিজ দায়িত্বস্থলে ফেরত পাঠানো হয়।

অবশ্য কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেন, “স্যার নিচে এসেছিলেন শুধু ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্য। ওই কক্ষে সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলছিলেন।”

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যখন ৩য় তলাতেই রয়েছে ওয়াশরুম, তখন নিচে এসে নির্দিষ্ট একটি পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের কী প্রয়োজন ছিল?

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, একজন ভিজিলেন্স সদস্যের এমন আচরণ শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থার ওপরও আঘাত। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ব্র্যাকের ‘ভাসমান শিক্ষা তরী’ পরিদর্শন ও শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

ওয়াশরুমের অজুহাতে পরীক্ষার হলে প্রবেশ, এরপর প্রশ্নের উত্তর বিতরণ!

Update Time : ০৬:৩৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫

তারিকুল তাজ, কক্সবাজার প্রতিনিধি ||

চলমান এইচএসসি পরীক্ষার ভেতরেই ঘটেছে এক চাঞ্চল্যকর অনিয়ম। কক্সবাজার জেলার চকরিয়া সিটি কলেজ কেন্দ্রে অভিযুক্ত একজন ভিজিলেন্স সদস্য—যিনি কিনা শিক্ষাপরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন, তিনিই এবার প্রশ্ন ফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে।

অভিযুক্ত ডুলাহাজারা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিদ্যার জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হুমায়ুন কবির। জানা গেছে, তিনি ১০ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ভিজিলেন্স টিমের সদস্য হিসেবে চকরিয়া সিটি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। তিনদিন পর, ১৩ জুলাই, তাঁকে আবারও দেখা যায় ওই একই কেন্দ্রের ৩০৩ নম্বর কক্ষে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করতে।

কিন্তু মূল বিস্ময়ের শুরু তখন, যখন পদার্থবিদ্যার এমসিকিউ পরীক্ষা চলাকালীন হুমায়ুন কবির নিচ তলার ১০১ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেখানে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র দেখে সঠিক উত্তর বলে দিতে শুরু করেন।

এক শিক্ষার্থী জানান, “স্যার কক্ষে ঢুকে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর বলে দিলেন। আমরা তো অবাক!”

অন্য কক্ষ পরিদর্শকদের অনেকেই এই ঘটনা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারকে জানানো হয়। পরে তাঁকে ভর্ৎসনা করে নিজ দায়িত্বস্থলে ফেরত পাঠানো হয়।

অবশ্য কেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ মো. সালাউদ্দিন পুরো বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে দাবি করেন, “স্যার নিচে এসেছিলেন শুধু ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্য। ওই কক্ষে সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলছিলেন।”

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, যখন ৩য় তলাতেই রয়েছে ওয়াশরুম, তখন নিচে এসে নির্দিষ্ট একটি পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের কী প্রয়োজন ছিল?

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, একজন ভিজিলেন্স সদস্যের এমন আচরণ শুধু দুঃখজনকই নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থার ওপরও আঘাত। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন সচেতন মহল।

প্রিন্ট করুন :