ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

ভাঙারির দোকান ঘিরে রক্তাক্ত মিটফোর্ড, যুবদল কর্মী খুনে চাঞ্চল্য

মোহাম্মদ মাসুদ, চট্টগ্রাম থেকে||

কে বসবে দোকানে, কে গুনবে টাকার হিসাব—এই নিয়েই তুমুল বিরোধ। আর তারই পরিণতিতে প্রকাশ্য রাস্তায় খুন যুবদল কর্মী লাল চাঁদ সোহাগ (৩৯)।

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের সড়কে দিনদুপুরে কুপিয়ে খুন করা হয় ভাঙারির পণ্যের ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী সোহাগকে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে ইতিমধ্যে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। আলোচনার কেন্দ্রে এখন একটাই প্রশ্ন—এটা কি শুধুই ব্যবসায়িক বিরোধ, না কি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও কিছু?

শনিবার (১২ জুলাই) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, “চাঁদাবাজির অভিযোগ আমরা পাইনি। মূলত, মিটফোর্ড এলাকায় একটি ভাঙারির দোকানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক লেনদেন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।”

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ইতোমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে মাহিন নামে এক যুবক রয়েছেন, যিনি মামলার প্রধান আসামি। তবে ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিত নয় বলেই জানিয়েছেন ডিসি।

তিনি আরও বলেন, “তদন্তে রাজনৈতিক কোনো বিবেচনা আমলে নেওয়া হবে না। আমরা নিরপেক্ষভাবে সবদিকেই নজর দিচ্ছি।”

ঘটনার সূত্রপাত ৯ জুলাই। সোহাগকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসপাতালের পাশেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখের সামনেই ঘটে যায় নির্মমতা। সেই ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়ে পথচারীর ক্যামেরায়। মুহূর্তেই সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

এরপর বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানায় নিহত সোহাগের বোন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১৫ জনকে রাখা হয়েছে আসামির তালিকায়।

তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, পুলিশের দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের মূলে রাজনৈতিক শত্রুতা নয়, বরং ভাঙারি ব্যবসার দখল ও লেনদেন নিয়ে সৃষ্ট তীব্র উত্তেজনাই রক্তাক্ত পরিণতি ডেকে এনেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

ভাঙারির দোকান ঘিরে রক্তাক্ত মিটফোর্ড, যুবদল কর্মী খুনে চাঞ্চল্য

Update Time : ০৪:২৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

মোহাম্মদ মাসুদ, চট্টগ্রাম থেকে||

কে বসবে দোকানে, কে গুনবে টাকার হিসাব—এই নিয়েই তুমুল বিরোধ। আর তারই পরিণতিতে প্রকাশ্য রাস্তায় খুন যুবদল কর্মী লাল চাঁদ সোহাগ (৩৯)।

রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনের সড়কে দিনদুপুরে কুপিয়ে খুন করা হয় ভাঙারির পণ্যের ব্যবসায়ী ও যুবদল কর্মী সোহাগকে। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ঘিরে ইতিমধ্যে উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। আলোচনার কেন্দ্রে এখন একটাই প্রশ্ন—এটা কি শুধুই ব্যবসায়িক বিরোধ, না কি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও কিছু?

শনিবার (১২ জুলাই) এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, “চাঁদাবাজির অভিযোগ আমরা পাইনি। মূলত, মিটফোর্ড এলাকায় একটি ভাঙারির দোকানকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়িক লেনদেন ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।”

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ ইতোমধ্যেই পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। এদের মধ্যে মাহিন নামে এক যুবক রয়েছেন, যিনি মামলার প্রধান আসামি। তবে ধৃতদের রাজনৈতিক পরিচয় এখনো নিশ্চিত নয় বলেই জানিয়েছেন ডিসি।

তিনি আরও বলেন, “তদন্তে রাজনৈতিক কোনো বিবেচনা আমলে নেওয়া হবে না। আমরা নিরপেক্ষভাবে সবদিকেই নজর দিচ্ছি।”

ঘটনার সূত্রপাত ৯ জুলাই। সোহাগকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসপাতালের পাশেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের চোখের সামনেই ঘটে যায় নির্মমতা। সেই ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়ে পথচারীর ক্যামেরায়। মুহূর্তেই সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। দেশজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া।

এরপর বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানায় নিহত সোহাগের বোন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১৫ জনকে রাখা হয়েছে আসামির তালিকায়।

তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও, পুলিশের দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের মূলে রাজনৈতিক শত্রুতা নয়, বরং ভাঙারি ব্যবসার দখল ও লেনদেন নিয়ে সৃষ্ট তীব্র উত্তেজনাই রক্তাক্ত পরিণতি ডেকে এনেছে।

প্রিন্ট করুন :