মোঃ শাহজালাল, বরগুনা প্রতিনিধি||
বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৫ উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর সহযোগী সংগঠন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরগুনার উদ্যোগে এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বরগুনা প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
“প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার বন্ধ ও প্রশাসনিকভাবে এর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করো” এই স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারী সংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—বরগুনা প্রেসক্লাব, ব্র্যাক, জাগো নারী, রূপান্তর, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বিডি ক্লিন, বরগুনা সাইন্স সোসাইটি, সনাক, এসিজি, ইয়েস ও আছিয়া এন্তাজ ফাউন্ডেশন।
মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন সনাক বরগুনার সভাপতি মনির হোসেন কামাল, জাগো নারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা হাসি, সনাক সদস্য ডা. মনিজা জলি, রূপান্তরের সমন্বয়ক খলিলুর রহমান এবং ইয়েস-এর সদস্য মো. শফিক।
বক্তারা বলেন, প্লাস্টিক পণ্যের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদী ও অপচনশীল হওয়ায় শত শত বছর ধরে পরিবেশে থেকে যাচ্ছে। প্লাস্টিক ভেঙে মাইক্রো প্লাস্টিকে পরিণত হয়ে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে, যা প্রাণিকুলের জন্য মারাত্মক হুমকি। এমনকি অ্যান্টার্কটিকার তুষারেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টন প্লাস্টিক বর্জ্য নদ-নদী ও সাগরে পৌঁছায়, যা পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে।
সনাক সভাপতি মনির হোসেন কামাল বলেন, “প্লাস্টিক দূষণ রোধে এখনই প্রয়োজন কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা।” তিনি টিআইবি প্রদত্ত ১৪ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
মানববন্ধন থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়, যেমন:
২০৩০ সালের মধ্যে প্লাস্টিক উৎপাদনে ভার্জিন ম্যাটেরিয়ালের ব্যবহার ৫০% কমানো,
২০২৬ সালের মধ্যে সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যবহার অন্তত ৯০% হ্রাস করা,
২০২৫ সালের মধ্যে প্লাস্টিক বর্জ্যের ৫০% পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা ৮০%-এ উন্নীত করা,
২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদন ৩০% কমিয়ে আনা।
এ সময় অংশগ্রহণকারীদের মাঝে টিআইবি প্রণীত সচেতনতামূলক ধারণাপত্র বিলি করা হয়।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 




















