নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী: গভীর রাতের মহাসড়কে টহলে ছিল পুলিশ। আচমকাই থামে একটি মাইক্রোবাস। সন্দেহ ঘনীভূত হতেই শুরু হয় তল্লাশি। আর তখনই ফাঁস হয় রোমহর্ষক এক পরিকল্পনার নেপথ্য! র্যাবের পোশাক, পিস্তল, ওয়াকিটকি—সবই প্রস্তুত ছিল। উদ্দেশ্য, ভয় দেখিয়ে ছিনতাই বা ডাকাতি। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় ধরা পড়ে যায় অন্তঃজেলা ডাকাত দলের দুই সদস্য।
মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পটুয়াখালীর দুমকির পায়রা সেতুর টোলপ্লাজায় এ ঘটনা ঘটে। টহল দলের নেতৃত্বে ছিলেন দুমকী থানার এএসআই ফরিদ উদ্দিন।
আটক হওয়া দুই ব্যক্তির একজন হলেন মো. আল আমিন (৪২), পিতা: বারেক দূয়ারী, গুলবাগ, বাউফল, পটুয়াখালী; অপরজন আল আমিন তারেক (৪৩), পিতা: কাশেম, মেরকুঠি, নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের দিক থেকে আসা একটি মাইক্রোবাসকে থামানোর সিগন্যাল দেওয়া হয়। গাড়িতে ছিল ছয়জন। এদের মধ্যে দুজন হঠাৎ ব্যাগ নিয়ে বের হয়, আর তৎক্ষণাৎ ড্রাইভার দ্রুত গতিতে গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়। পালাতে চায় ওই দুজনও। কিন্তু পুলিশ তাদের দ্রুতই ধরে ফেলে।
ব্যাগ খুলতেই বেরিয়ে আসে র্যাবের তিনটি পোশাক, দুটি খেলনা পিস্তল, একটি ওয়াকিটকি সেট, পাঁচটি মোবাইল ফোন এবং দুটি গাড়ির নম্বর প্লেট!
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান দুমকী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন। তিনি জানান, “আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন।”
ঘটনার পর মহাসড়কে সতর্কতা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জেলায় ভয়ভীতি দেখিয়ে ডাকাতি ও প্রতারণায় জড়িত।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 
























