ফেনী প্রতিনিধি:
আওয়ামী লীগকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ করার দাবিতে ফেনীতে টানা দুই দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ছাত্র ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার (৯ মে) ও শনিবার (১০ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভার এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আন্দোলনকারীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন: আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে দলীয় বিচারের বিধান সংযোজন, এবং ‘জুলাই বিপ্লব’ বিষয়ে একটি ঘোষণাপত্র প্রকাশ। তারা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘গোলামি না আজাদী, আজাদী আজাদী’সহ বিভিন্ন স্লোগানে কর্মসূচি চালিয়ে যান।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট মহিপালে গুলিতে নিহতদের হত্যার বিচার হয়নি। বক্তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ দমন-পীড়নের মাধ্যমে দেশে একচেটিয়া শাসন কায়েম করেছে এবং ৫ আগস্টের ঘটনার মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুফতি আবদুল হান্নান বলেন, “আমরা জানতে চাই, আওয়ামী লীগ কিভাবে এখনো ফেনীর মাটিতে মিছিল করার সাহস পায়? খুনিদের বিচার করতে হবে।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি আবদুল আজিজ বলেন, “আওয়ামী লীগের বিচার এবং নিষিদ্ধ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। শাহবাগের অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশেই ফেনীর কর্মসূচি।”
ওসমান গনি রাসেল নামে আরেক সংগঠক বলেন, “গত বছরের ৪ আগস্ট এখানেই আমাদের ১২ জন ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন। সেই ঘটনার ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক প্রতিরোধই আমাদের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য।”
এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা শাখা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী ছাত্রশিবির, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক কমিটি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
সাউথ বাংলা ডেস্ক 
























