ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

পটুয়াখালীতে বিয়ের আলাপচারিতায় রক্তাক্ত সংঘর্ষ: বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

নিজস্ব প্রতিবেদক||

পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নে বিয়ের আলাপচারিতাকে কেন্দ্র করে বারেক ফকির (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩ মে) জোহরের নামাজের পর স্থানীয় মোল্লা বাড়ি মসজিদের সামনে মারধরের শিকার হওয়ার পর রোববার (৪ মে) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নামাজ শেষে পাত্র সম্পর্কে জানতে চান মেয়ে পক্ষের এক সদস্য। এ সময় বারেক ফকির সত্য তথ্য জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে পাত্র আব্দুর রহমান তাকে কিল-ঘুষি মারেন। পরে আব্দুর রহমানের ভাই আরিফ লাঠি ও রড দিয়ে বারেক ফকিরকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বারেক ফকিরকে প্রথমে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয় এবং পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহতের ছেলে সুমন ফকির বলেন, “আমার বাবা একজন নিরীহ, সৎ মানুষ ছিলেন। শুধু সত্য বলার কারণে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই নৃশংস হত্যার বিচার চাই।”

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে একজন—পাত্রের বাবা আজহার খানকে গ্রেপ্তার করেছে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়রা এ ঘটনাকে চরম অমানবিক এবং ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

পটুয়াখালীতে বিয়ের আলাপচারিতায় রক্তাক্ত সংঘর্ষ: বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

Update Time : ০৯:১৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক||

পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নে বিয়ের আলাপচারিতাকে কেন্দ্র করে বারেক ফকির (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩ মে) জোহরের নামাজের পর স্থানীয় মোল্লা বাড়ি মসজিদের সামনে মারধরের শিকার হওয়ার পর রোববার (৪ মে) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নামাজ শেষে পাত্র সম্পর্কে জানতে চান মেয়ে পক্ষের এক সদস্য। এ সময় বারেক ফকির সত্য তথ্য জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে পাত্র আব্দুর রহমান তাকে কিল-ঘুষি মারেন। পরে আব্দুর রহমানের ভাই আরিফ লাঠি ও রড দিয়ে বারেক ফকিরকে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা বারেক ফকিরকে প্রথমে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে বাড়িতে ফেরত পাঠানো হয় এবং পথেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নিহতের ছেলে সুমন ফকির বলেন, “আমার বাবা একজন নিরীহ, সৎ মানুষ ছিলেন। শুধু সত্য বলার কারণে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই নৃশংস হত্যার বিচার চাই।”

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পটুয়াখালী সদর থানা পুলিশ অভিযুক্তদের মধ্যে একজন—পাত্রের বাবা আজহার খানকে গ্রেপ্তার করেছে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়রা এ ঘটনাকে চরম অমানবিক এবং ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রিন্ট করুন :