ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

“অসুস্থ গৃহকর্তাকে পানি পান করিয়ে ডাকাতি—মির্জাগঞ্জে সিনেমাকেও হার মানানো রাত”

নাঈম ইসলাম, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী||

বৃষ্টি ভেজা গভীর রাতে দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে হঠাৎ নেমে আসে এক অভাবনীয় আতঙ্ক। মুখোশধারী একদল ডাকাত হামলা চালায় ওষুধ ব্যবসায়ী সোবাহান হাওলাদার (৬০) এবং তাঁর ভাতিজা শিক্ষক জহিরুল ইসলামের বাড়িতে। ডাকাতদের উপস্থিতিতে চরম ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ গৃহকর্তা সোবাহান। অথচ বিস্ময়ের ব্যাপার—ডাকাতরাই তাঁকে পানি পান করিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করে। তারপরই তারা আলমারিতে হাত দেয়, লুটে নেয় দুই পরিবারের স্বর্ণালংকার, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে। প্রথমে সোবাহান হাওলাদারের আধাপাকা ঘরে ঢুকে পরিবারকে জিম্মি করে ডাকাতদল। এরপর তারা চলে যায় পাশের বাড়িতে, যেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জহিরুল ইসলাম তাঁর পরিবারসহ ছিলেন। ডাকাতেরা তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে সবাইকে বেঁধে ফেলে এবং ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতদল প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার, ৩৮ হাজার টাকা ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। জহিরুল ইসলাম জানান, “বৃষ্টির মধ্যে মুখোশধারীরা হঠাৎ আমাদের ঘরে ঢুকে পড়ে। পরিবারের সবার চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। কিছু বোঝার আগেই তারা সব লুট করে নেয়।”

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার বলেন, “খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ওই সময় বৃষ্টির কারণে ডাকাতরা খোলা মাঠ দিয়ে ঢুকে পড়ে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে পুলিশ টহলে থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে তারা ঢুকে পড়ে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।”

গ্রামে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃষ্টির রাত শেষে উঠেছে সকাল, কিন্তু দুই পরিবারে নেমে এসেছে দীর্ঘ এক অন্ধকার। পুলিশের প্রতি রয়েছে প্রশ্ন—বৃষ্টির ফোঁটার নিচে কেন নিরাপত্তা এত নড়বড়ে?

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

“অসুস্থ গৃহকর্তাকে পানি পান করিয়ে ডাকাতি—মির্জাগঞ্জে সিনেমাকেও হার মানানো রাত”

Update Time : ০৯:২৮:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৫

নাঈম ইসলাম, মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী||

বৃষ্টি ভেজা গভীর রাতে দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে হঠাৎ নেমে আসে এক অভাবনীয় আতঙ্ক। মুখোশধারী একদল ডাকাত হামলা চালায় ওষুধ ব্যবসায়ী সোবাহান হাওলাদার (৬০) এবং তাঁর ভাতিজা শিক্ষক জহিরুল ইসলামের বাড়িতে। ডাকাতদের উপস্থিতিতে চরম ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ গৃহকর্তা সোবাহান। অথচ বিস্ময়ের ব্যাপার—ডাকাতরাই তাঁকে পানি পান করিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করে। তারপরই তারা আলমারিতে হাত দেয়, লুটে নেয় দুই পরিবারের স্বর্ণালংকার, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে। প্রথমে সোবাহান হাওলাদারের আধাপাকা ঘরে ঢুকে পরিবারকে জিম্মি করে ডাকাতদল। এরপর তারা চলে যায় পাশের বাড়িতে, যেখানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জহিরুল ইসলাম তাঁর পরিবারসহ ছিলেন। ডাকাতেরা তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ঢুকে সবাইকে বেঁধে ফেলে এবং ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতদল প্রায় সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার, ৩৮ হাজার টাকা ও বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। জহিরুল ইসলাম জানান, “বৃষ্টির মধ্যে মুখোশধারীরা হঠাৎ আমাদের ঘরে ঢুকে পড়ে। পরিবারের সবার চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। কিছু বোঝার আগেই তারা সব লুট করে নেয়।”

এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হাওলাদার বলেন, “খবর পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ওই সময় বৃষ্টির কারণে ডাকাতরা খোলা মাঠ দিয়ে ঢুকে পড়ে। ঘটনাস্থলের আশেপাশে পুলিশ টহলে থাকলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে তারা ঢুকে পড়ে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।”

গ্রামে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃষ্টির রাত শেষে উঠেছে সকাল, কিন্তু দুই পরিবারে নেমে এসেছে দীর্ঘ এক অন্ধকার। পুলিশের প্রতি রয়েছে প্রশ্ন—বৃষ্টির ফোঁটার নিচে কেন নিরাপত্তা এত নড়বড়ে?

প্রিন্ট করুন :