ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

পটুয়াখালীতে বিপুল পরিমাণ রেণু পোনা জব্দ, বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী

পটুয়াখালীর ব্রীজ এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণে রেণু পোনা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এসব রেণু পোনা আহরণকালে কেবল চিংড়ি রেণু পোনা রেখে অন্যান্য পোনা গুলো ফেলে দেয়া হয়। এতে বিপন্ন হয়ে পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণী।

শুক্রবার(২৫এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২ টায় ঘটনাস্থলে সাংবাদিক পৌঁছে রেণুর ব্যাপারে জানতে চাইলে তড়িঘড়ি করে সাদা মাইক্রোবাসে জব্দকৃত রেণু পোনা নিয়ে কোস্টগার্ড এলাকায় প্রবেশ করেন তারা।

তবে কী পরিমান রেনুপোনা জব্দ করা হয়েছে তা এখন পর্যন্ত সুনিশ্চিত কোন তথ্য ‘সাউথ বাংলা’ সংগ্রহ করতে পারে নি।

তবে এ ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন কোস্টগার্ড। বাদশা নামের এক মাঝি ও তার ছেলে জানিয়েছেন জব্দকৃত ওই গাড়ি তাদের।

প্রসঙ্গত, সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন সাগর সহ কলাপাড়া উপজেলার প্রতিটি নদীতে চলছে রেনু নিধনের মহোৎসব। প্রশাসনের নাকের ডগায় স্থানীয় জেলেরা চিংড়ি রেনু আহরণ করতে গিয়ে প্রায় শতাধিক প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের রেনু মেরে ফেলছেন তারা। জানা যায়, স্থানীয় কয়েকটি বাজারে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার বেচাকেনা হয় এ চিংড়ি রেনু পোনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে কুয়াকাটা সাগর তীরবর্তী নানা বয়সী জেলেরা বিশেষ এক ধরনের জাল নিয়ে সৈকত সংলগ্ন সাগরে রেণু আহরণ করে। প্রতি দুই কিলোমিটারে অন্তত ৫-৮ জনকে জাল টানতে দেখা যাবে। জালে ধরা পড়ছে চিংড়ি রেণু পোনা সহ শতাধিক প্রজাতির রেণু। শুধুমাত্র চিংড়ি রেনু বাদে বাকিগুলো ফেলে দেয় তারা।

এসব জেলেদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ও বিকাল দুই বেলায় প্রত্যেকে ৫-৭ হাজার চিংড়ি রেনু আহরণ করতে পারেন তারা। একশ্রেণীর হকার জেলেদের কাছ থেকে রেনু সংগ্রহ করে আলিপুর, মহিপুর, হাজিপুর, লতা চাপলি, বাবলাতলা বাজার সহ বেশ কয়েকটি স্থানে বেচাকেনা হয়। ওইসব বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান করেন। অত্যন্ত গোপনে পরিবহন করার জন্য নদীপথে ট্রলার এবং সড়কপথে পিক আপ ভ্যন, মাঝারি সাইজের ট্রাক ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করা হয়।

আরো জানা যায়, রেণু আহরণ নিষিদ্ধ বিধায় জলে কিংবা স্থলপথে পরিবহন করতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশাসনিক এলাকার সরকারি দপ্তরগুলো ম্যানেজ করে নিশ্চিন্তে এ অবৈধ কাজটি করে থাকে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অবৈধ রেণু আহরণের ব্যাপারে সংবাদসহ প্রশাসনকে সরাসরি অভিযোগ ও অবগত করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এই অবৈধ কারবার।

বিগত দিনের এই সাধারণ চিত্র আজও বিরাজমান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, যদি এই চক্রকে আমরা ধরতে পারলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য সিনিয়র সহকারী পরিচালক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, রেনু পোনা সহ সকল ধরনের ছোট মাছ যেন না ধরতে পারে এজন্য চরগরা, বেহুনতি, নেট জালসহ সকল অবৈধ জাল জব্দ করার অভিযান চলমান রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের সম্মিলিতভাবে চতুর্থ ধাপের কম্বিনেশন অপারেশন চলছে। এছাড়াও চিংড়ি রেনু ক্রয়-বিক্রয় ও আহরণ সংশ্লিষ্ট সকল অবৈধ কাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য সারা বছর বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Md. Riajul Islam

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

পটুয়াখালীতে বিপুল পরিমাণ রেণু পোনা জব্দ, বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণী

Update Time : ০৫:৪৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

পটুয়াখালীর ব্রীজ এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণে রেণু পোনা জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এসব রেণু পোনা আহরণকালে কেবল চিংড়ি রেণু পোনা রেখে অন্যান্য পোনা গুলো ফেলে দেয়া হয়। এতে বিপন্ন হয়ে পড়ছে সামুদ্রিক প্রাণী।

শুক্রবার(২৫এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২ টায় ঘটনাস্থলে সাংবাদিক পৌঁছে রেণুর ব্যাপারে জানতে চাইলে তড়িঘড়ি করে সাদা মাইক্রোবাসে জব্দকৃত রেণু পোনা নিয়ে কোস্টগার্ড এলাকায় প্রবেশ করেন তারা।

তবে কী পরিমান রেনুপোনা জব্দ করা হয়েছে তা এখন পর্যন্ত সুনিশ্চিত কোন তথ্য ‘সাউথ বাংলা’ সংগ্রহ করতে পারে নি।

তবে এ ব্যাপারে মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন কোস্টগার্ড। বাদশা নামের এক মাঝি ও তার ছেলে জানিয়েছেন জব্দকৃত ওই গাড়ি তাদের।

প্রসঙ্গত, সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কুয়াকাটা সৈকত সংলগ্ন সাগর সহ কলাপাড়া উপজেলার প্রতিটি নদীতে চলছে রেনু নিধনের মহোৎসব। প্রশাসনের নাকের ডগায় স্থানীয় জেলেরা চিংড়ি রেনু আহরণ করতে গিয়ে প্রায় শতাধিক প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের রেনু মেরে ফেলছেন তারা। জানা যায়, স্থানীয় কয়েকটি বাজারে প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার বেচাকেনা হয় এ চিংড়ি রেনু পোনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে কুয়াকাটা সাগর তীরবর্তী নানা বয়সী জেলেরা বিশেষ এক ধরনের জাল নিয়ে সৈকত সংলগ্ন সাগরে রেণু আহরণ করে। প্রতি দুই কিলোমিটারে অন্তত ৫-৮ জনকে জাল টানতে দেখা যাবে। জালে ধরা পড়ছে চিংড়ি রেণু পোনা সহ শতাধিক প্রজাতির রেণু। শুধুমাত্র চিংড়ি রেনু বাদে বাকিগুলো ফেলে দেয় তারা।

এসব জেলেদের সাথে আলাপ কালে জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ও বিকাল দুই বেলায় প্রত্যেকে ৫-৭ হাজার চিংড়ি রেনু আহরণ করতে পারেন তারা। একশ্রেণীর হকার জেলেদের কাছ থেকে রেনু সংগ্রহ করে আলিপুর, মহিপুর, হাজিপুর, লতা চাপলি, বাবলাতলা বাজার সহ বেশ কয়েকটি স্থানে বেচাকেনা হয়। ওইসব বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা গোপালগঞ্জ, খুলনা, বাগেরহাট সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চালান করেন। অত্যন্ত গোপনে পরিবহন করার জন্য নদীপথে ট্রলার এবং সড়কপথে পিক আপ ভ্যন, মাঝারি সাইজের ট্রাক ও মাইক্রোবাস ব্যবহার করা হয়।

আরো জানা যায়, রেণু আহরণ নিষিদ্ধ বিধায় জলে কিংবা স্থলপথে পরিবহন করতে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশাসনিক এলাকার সরকারি দপ্তরগুলো ম্যানেজ করে নিশ্চিন্তে এ অবৈধ কাজটি করে থাকে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় অবৈধ রেণু আহরণের ব্যাপারে সংবাদসহ প্রশাসনকে সরাসরি অভিযোগ ও অবগত করেও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এই অবৈধ কারবার।

বিগত দিনের এই সাধারণ চিত্র আজও বিরাজমান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, যদি এই চক্রকে আমরা ধরতে পারলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য সিনিয়র সহকারী পরিচালক প্রদীপ কুমার সরকার বলেন, রেনু পোনা সহ সকল ধরনের ছোট মাছ যেন না ধরতে পারে এজন্য চরগরা, বেহুনতি, নেট জালসহ সকল অবৈধ জাল জব্দ করার অভিযান চলমান রয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের সম্মিলিতভাবে চতুর্থ ধাপের কম্বিনেশন অপারেশন চলছে। এছাড়াও চিংড়ি রেনু ক্রয়-বিক্রয় ও আহরণ সংশ্লিষ্ট সকল অবৈধ কাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য সারা বছর বিশেষ অভিযান চলমান থাকবে।

প্রিন্ট করুন :