মোঃ সুলাইমান
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের চিকিৎসকসংকট, জনবল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি নিরসনে এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ নুরুল ইসলাম মনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা। ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের সংকট চলছে। এর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৩১টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র চারজন। এত কমসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের চিকিৎসাসেবা চালিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া দুই উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের পদও শূন্য রয়েছে।
চিকিৎসকসংকটের পাশাপাশি হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন, আলট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্র, ডেন্টাল চেয়ার, বয়লার মেশিন ও অটোমেটিক সেল কাউন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে। পর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী, টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান না থাকায় চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা পেতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন অনেকে।
শিশুকে নিয়ে হাসপাতালে আসা মারিয়া নামের এক নারী জানান, সকাল ১০টায় শিশুকে চিকিৎসা দেখানোর জন্য হাসপাতালে আসেন তিনি। কিন্তু দুপুর ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও শিশুটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারেননি।
রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। কখনো কখনো ওষুধও বাইরে থেকে কিনতে হয় বলে তাঁদের দাবি।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমানে হাসপাতালে ওষুধের কোনো সংকট নেই। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে।
রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কম থাকায় সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রোগীদের স্বজনদের। গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরগুনা জেলা সদর হাসপাতালসহ অন্যত্র পাঠানোর প্রয়োজন হলে তাঁদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও সংকট নিরসনের দাবিতে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এরপরও সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে।
সোমবার হাসপাতালের নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনকালে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি চিকিৎসকসংকটসহ বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে আগামী এক মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
সাধারণ মানুষ যাতে হাসপাতালে এসে চিকিৎসাসেবা নিতে কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন, সে বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেন তিনি।
চিফ হুইপের এ আশ্বাসের পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও জনবলসংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন। তাঁদের আশা, প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলোর সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়া হলে পাথরঘাটার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়া সহজ হবে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, হাসপাতালে জনবলসংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে বর্তমানে হাসপাতালে কোনো ওষুধের সংকট নেই। সরকারি বিধি অনুযায়ী এখানে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে।
Reporter Name 




















