ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

গোয়াইনঘাটে বসতভিটা জবরদখল করে একঘরে করার অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৮ Time View
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের বলেশ্বর গ্রামে বসতবাড়ি জমি জবরদখলের চেষ্টা, পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এছাড়া কোনো প্রকার কাগজপত্র বা প্রমাণ ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদ জানানো হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে গোয়াইনঘাট উপজেলা শহীদ মিনার সংলগ্ন মুক্ত মঞ্চে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বলেশ্বর গ্রামের মৃত মো. বশির উদ্দিনের ছেলে আব্দুস শুকুর।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস শুকুর অভিযোগ করেন, তাদের গ্রামের প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ লোক হিসেবে পরিচিত ইকবাল হোসেন, মাহমুদ আলী, লোকমান উদ্দিন, মুসাই মিয়া, ফরিদ উদ্দিন ও হারুন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসতবাড়ি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।

২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর লোকমান উদ্দিন গং একটি প্রতারণামূলক জাল দলিল তৈরি করে বাড়ি দখলের চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়।

সহকারী জজ আদালত গোয়াইনঘাটে একটি স্বত্ব মামলা (মামলা নং ০৪/২৪) এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১, সিলেটে আরও একটি মামলা (মামলা নং ১২৪) দায়ের করা হয়।

তিনি আরও জানান, আদালতে মামলা করায় প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে হত্যা ও বাড়ি দখলের হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি, ইউএনও, ডিসি এবং পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানান, গত ১৭ অক্টোবর একটি ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতিপক্ষদের সাথে নিয়ে লাইভে এসে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়। লাইভে জমি সংক্রান্ত অভিযোগ করা হলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছে, বিএস ৬২৩ দাগে ভুক্তভোগী পরিবার পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমিতে ১৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। হিসেব অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য জমির চেয়ে বাস্তবে তারা কম জমি ভোগদখলে আছেন। প্রকৃতপক্ষে বিএস ৬২৩ দাগের জমি অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন বিবাদী মুসাই মিয়া ও মাহমুদ আলী গং।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গাছপালা কেটে ফেলে ও দুটি ঘর ভেঙে ফেলে।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী স্পটে এসে বাড়ি রক্ষা করে এবং বিবাদীরা জবরদখলের চেষ্টা স্বীকার করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে আপোশনামা জমা দেয়। পরে সেনাক্যাম্প উঠে গেলে বিবাদীদের উগ্র আচরণের কারণে স্থানীয় ছাব্বিশ মৌজার মুরুব্বিদের সালিশি প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

এ বিষয়ে জানানো হয়, জমি বিক্রির সময় আইনি জটিলতায় ১৩ শতক জমির দলিল দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তৎকালীন সময়েই ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে বিকল্প দাগে জমি বা উপযুক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করা হয়েছিল, যা পরিশোধে পরিবারটি এখনো রাজি আছে।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস শুকুর বলেন, মামলা নিষ্পত্তিতে বিএস ৬২৩ দাগের অবৈধ দখল ছাড়তে হবে-এই ভয়ে প্রতিপক্ষ গ্রামের মানুষকে উস্কে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গ্রামের কেউ তাদের সাথে কথা বললে বড় অংকের টাকা জরিমানা করা হচ্ছে, এমনকি ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় এবং গবাদিপশু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উস্কানিমূলক লাইভ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইকবাল গংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়,বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধান করলেও সালিশি রায় না মেনে গ্রামের বিরুদ্ধে গিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন , ফলে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলে আবারও বিষয়টিকে আমলে নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী এবং গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

গোয়াইনঘাটে বসতভিটা জবরদখল করে একঘরে করার অভিযোগ

Update Time : ০৬:৩৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
গোয়াইনঘাট (সিলেট) প্রতিনিধি : সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের বলেশ্বর গ্রামে বসতবাড়ি জমি জবরদখলের চেষ্টা, পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এছাড়া কোনো প্রকার কাগজপত্র বা প্রমাণ ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচারের প্রতিবাদ জানানো হয়।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে গোয়াইনঘাট উপজেলা শহীদ মিনার সংলগ্ন মুক্ত মঞ্চে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বলেশ্বর গ্রামের মৃত মো. বশির উদ্দিনের ছেলে আব্দুস শুকুর।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস শুকুর অভিযোগ করেন, তাদের গ্রামের প্রভাবশালী ও দাঙ্গাবাজ লোক হিসেবে পরিচিত ইকবাল হোসেন, মাহমুদ আলী, লোকমান উদ্দিন, মুসাই মিয়া, ফরিদ উদ্দিন ও হারুন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তাদের বসতবাড়ি জবরদখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।

২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর লোকমান উদ্দিন গং একটি প্রতারণামূলক জাল দলিল তৈরি করে বাড়ি দখলের চেষ্টা করলে ভুক্তভোগী পরিবার আদালতের শরণাপন্ন হয়।

সহকারী জজ আদালত গোয়াইনঘাটে একটি স্বত্ব মামলা (মামলা নং ০৪/২৪) এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১, সিলেটে আরও একটি মামলা (মামলা নং ১২৪) দায়ের করা হয়।

তিনি আরও জানান, আদালতে মামলা করায় প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে হত্যা ও বাড়ি দখলের হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে গোয়াইনঘাট থানার ওসি, ইউএনও, ডিসি এবং পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার জানান, গত ১৭ অক্টোবর একটি ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতিপক্ষদের সাথে নিয়ে লাইভে এসে ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়। লাইভে জমি সংক্রান্ত অভিযোগ করা হলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র প্রদর্শন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপক্ষের উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দেওয়া হয়েছে, বিএস ৬২৩ দাগে ভুক্তভোগী পরিবার পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমিতে ১৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। হিসেব অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য জমির চেয়ে বাস্তবে তারা কম জমি ভোগদখলে আছেন। প্রকৃতপক্ষে বিএস ৬২৩ দাগের জমি অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন বিবাদী মুসাই মিয়া ও মাহমুদ আলী গং।

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর প্রতিপক্ষ তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গাছপালা কেটে ফেলে ও দুটি ঘর ভেঙে ফেলে।

খবর পেয়ে সেনাবাহিনী স্পটে এসে বাড়ি রক্ষা করে এবং বিবাদীরা জবরদখলের চেষ্টা স্বীকার করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে আপোশনামা জমা দেয়। পরে সেনাক্যাম্প উঠে গেলে বিবাদীদের উগ্র আচরণের কারণে স্থানীয় ছাব্বিশ মৌজার মুরুব্বিদের সালিশি প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

এ বিষয়ে জানানো হয়, জমি বিক্রির সময় আইনি জটিলতায় ১৩ শতক জমির দলিল দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তৎকালীন সময়েই ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে বিকল্প দাগে জমি বা উপযুক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করা হয়েছিল, যা পরিশোধে পরিবারটি এখনো রাজি আছে।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস শুকুর বলেন, মামলা নিষ্পত্তিতে বিএস ৬২৩ দাগের অবৈধ দখল ছাড়তে হবে-এই ভয়ে প্রতিপক্ষ গ্রামের মানুষকে উস্কে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গ্রামের কেউ তাদের সাথে কথা বললে বড় অংকের টাকা জরিমানা করা হচ্ছে, এমনকি ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় এবং গবাদিপশু জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আদালতের ১৪৪ ধারা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উস্কানিমূলক লাইভ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইকবাল গংয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়,বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধান করলেও সালিশি রায় না মেনে গ্রামের বিরুদ্ধে গিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন , ফলে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলে আবারও বিষয়টিকে আমলে নিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী এবং গোয়াইনঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ ওমর ফারুক উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে সমাধান করার আশ্বাস প্রদান করেন।

প্রিন্ট করুন :