ঢাকা ০৭:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার পবিপ্রবিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত গোয়াইনঘাট থানা সদরের প্রথম- ‘স্ট্রাইকার জোন ফুটসাল ইনডোরের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পাথরঘাটায় ২১ বছরের বিবাহিত আসামিকে চার্জশিটে ১৬ বছরের শিশু দেখানোর অভিযোগ গোয়াইনঘাটের চৌধুরী বিলে রাতের আঁধারে বিষ প্রয়োগ,ক্ষতির মুখে দুই মাছ চাষি আমতলীতে মকবুল খানের গনসংযোগে বাঁধভাঙা জনস্রোত আমতলীতে ৪৭০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার,পলাতক জামাতা চুনারুঘাটে একাধিক মামলার আসামি জাহির-রাজু প্রকাশ্যে, গ্রেপ্তার নিয়ে প্রশ্ন বাকেরগঞ্জে নারী দিয়ে ‘মব’ ছাত্রদল নেতাকে ফাঁসানোর অভিযোগ দুমকির গৃহবধূকে কুপিয়ে জখমের মামলায় প্রধান আসামি শাকিল ফকির আটক

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৯ Time View

 

শেখ রায়হান হোসেন

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটে মাছের ঘের দখলের চেষ্টা, মাছ লুট, বাড়িঘর ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন সদর উপজেলার এর ব্যবসায়ী মোজাহিদুল মৃধা।
লিখিত অভিযোগে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জমি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর আমাদের মাছের ঘের রয়েছে। ওই ঘেরের মধ্যে প্রতিপক্ষের প্রায় ১৪ কাঠা জমি রয়েছে। এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আমরা তাদের ইজারার টাকা গ্রহণ করা অথবা তাদের জমি আলাদা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রস্তাবে সম্মত হয়নি। এর আগেও একাধিকবার আমাদের ঘের থেকে মাছ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এসব ঘটনার সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও আমরা কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাইনি।
সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আমরা ঘেরে মাছ ধরতে গেলে জসিম দর্জি, হাসান দর্জি, জাহাঙ্গীর দর্জি, মিনাজ দর্জিসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় আমার বাবা আলী মৃধাসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা আহত হন। আমার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। নারীসহ অন্তত ৭জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩জনকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগে তিনি আরো বলেন, হামলাকারীরা ঘেরের মাছ ও জাল নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনায় আমাদের আনুমানিক ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ধার দেনা করে ঘের ইজারা নিয়েছি এবং মাছ চাষে বিনিয়োগ করেছি। মাছ বড় হওয়ার পরও আমরা ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছিনা। এখন একদিকে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের চাপ-সব মিলিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজন অতীতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসান দর্জি বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সদস্যসচিব ছিলেন। এ ছাড়া মারুক দর্জি ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে আমাদের দাবি। হামলায় অভিযুক্ত জসিম দর্জি, হাসান দর্জি, জাহাঙ্গীর দর্জি ও মিনাজ দর্জিসহ কয়েকজন বর্তমানে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মিরাজের সঙ্গে চলাফেরা করেন এবং তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।তবে আমরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার রাজনৈতিক পরিচয় ও বর্তমান রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
আমরা কারও প্রতি প্রতিশোধ নিতে চাই না। আমরা চাই, আমাদের ওপর সংঘটিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পরিশেষে বলতে চাই, আমরা সাধারণ মানুষ। মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা নিরাপদে কাজ করতে চাই, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শান্তিতে বাঁচতে চাই এবং আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

Popular Post
Classic Software Technology

দুমকিতে ইউপি হালটে কবরস্থানের দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ, অবরুদ্ধ প্রকৌশলী পরিবার

Update Time : ১১:০০:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

শেখ রায়হান হোসেন

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ বাগেরহাটে মাছের ঘের দখলের চেষ্টা, মাছ লুট, বাড়িঘর ভাঙচুর ও হামলার ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে লিখিত অভিযোগ পাঠ করেন সদর উপজেলার এর ব্যবসায়ী মোজাহিদুল মৃধা।
লিখিত অভিযোগে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে জমি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর আমাদের মাছের ঘের রয়েছে। ওই ঘেরের মধ্যে প্রতিপক্ষের প্রায় ১৪ কাঠা জমি রয়েছে। এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আমরা তাদের ইজারার টাকা গ্রহণ করা অথবা তাদের জমি আলাদা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু প্রস্তাবে সম্মত হয়নি। এর আগেও একাধিকবার আমাদের ঘের থেকে মাছ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে । এসব ঘটনার সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও আমরা কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাইনি।
সর্বশেষ গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে আমরা ঘেরে মাছ ধরতে গেলে জসিম দর্জি, হাসান দর্জি, জাহাঙ্গীর দর্জি, মিনাজ দর্জিসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর আক্রমণ করে। এ সময় আমার বাবা আলী মৃধাসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা আহত হন। আমার বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। নারীসহ অন্তত ৭জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩জনকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিযোগে তিনি আরো বলেন, হামলাকারীরা ঘেরের মাছ ও জাল নিয়ে গেছেন। পাশাপাশি আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনায় আমাদের আনুমানিক ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ধার দেনা করে ঘের ইজারা নিয়েছি এবং মাছ চাষে বিনিয়োগ করেছি। মাছ বড় হওয়ার পরও আমরা ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছিনা। এখন একদিকে পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে ঋণ পরিশোধের চাপ-সব মিলিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এই ঘটনায় অভিযুক্ত কয়েকজন অতীতে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসান দর্জি বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সদস্যসচিব ছিলেন। এ ছাড়া মারুক দর্জি ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে আমাদের দাবি। হামলায় অভিযুক্ত জসিম দর্জি, হাসান দর্জি, জাহাঙ্গীর দর্জি ও মিনাজ দর্জিসহ কয়েকজন বর্তমানে বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মিরাজের সঙ্গে চলাফেরা করেন এবং তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।তবে আমরা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার রাজনৈতিক পরিচয় ও বর্তমান রাজনৈতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
আমরা কারও প্রতি প্রতিশোধ নিতে চাই না। আমরা চাই, আমাদের ওপর সংঘটিত হামলার সুষ্ঠু তদন্ত হোক, প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
পরিশেষে বলতে চাই, আমরা সাধারণ মানুষ। মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা নিরাপদে কাজ করতে চাই, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শান্তিতে বাঁচতে চাই এবং আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে চাই।

প্রিন্ট করুন :