গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ায় প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সরকারি চক্ষু হাসপাতাল কমপ্লেক্সের ১৭টি ভবন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকার অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও এসব ভবন পুরোপুরি ব্যবহার না হওয়ায় সরকারি অর্থের অপচয়, অব্যবস্থাপনা ও নির্মাণগত ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত দাবি করেছেন তাঁরা।
গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে প্রায় ১৫ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে হাসপাতাল কমপ্লেক্সটি। ২০১০ সালে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০১৫ সালের জুনে তা শেষ হয়। ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। গোপালগঞ্জসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলার মানুষের আধুনিক চক্ষু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পুরো কমপ্লেক্সে ২৩টি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে একাডেমিক ভবন, আবাসিক কোয়ার্টার ও ডরমেটরিসহ ১৭টি ভবন রয়েছে। চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য নির্মিত এসব ভবনে প্রায় ৩৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরও আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকার অভিযোগ রয়েছে। ভবন হস্তান্তর নিয়ে জটিলতা, নির্মাণগত ত্রুটি ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতাকে এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় ভবনগুলোর আশপাশে আগাছা ও লতাপাতা জন্মেছে। কোথাও কোথাও জমেছে আবর্জনা। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাবে সরকারি সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। সন্ধ্যার পর পরিত্যক্ত ভবন ও আশপাশে বহিরাগতদের আনাগোনা এবং মাদকসেবীদের আড্ডা বসার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে সরব হয়েছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কমিটির সভাপতি ডা. কে এম বাবর। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “১৭টি ভবন এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। শত শত কোটি টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে খেয়েছে গণপূর্ত বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান—এমন অভিযোগ রয়েছে। এদের বিচারের আওতায় আনা উচিত। এখন এই ভবনগুলো কীভাবে চালু করা যায়, সে বিষয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি।”
তবে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বর্তমান গণপূর্ত বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। ফলে ভবনগুলো দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণ এবং হস্তান্তরসংক্রান্ত জটিলতার বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পের ব্যয়, নির্মাণকাজের মান, ভবন হস্তান্তর ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দুদকের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। তদন্তে দুর্নীতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অব্যবহৃত ভবনগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সরকারি অর্থে নির্মিত এসব স্থাপনার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করবে এবং হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও সম্প্রসারণ করবে।
Reporter Name 




















