শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মালিকানাধীন জমি ও মার্কেট দখলের চেষ্টা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সৌদিপ্রবাসী মো. মনির হোসেন। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন মনির হোসেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট জমির পূর্ববর্তী মালিকদের পরিবারের সদস্য নমিতা বালা ও রীনা রানী উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মনির হোসেন দাবি করেন, শ্যামনগর উপজেলার ইছাকুড় মৌজার খানপুর বাজারসংলগ্ন এসএ ১৮৪ নম্বর খতিয়ানের ৬২ শতক জমি তাঁর স্ত্রী ও ভাইয়ের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে ক্রয় করেন তিনি। পরে ওই জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করে সেখানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
মনির হোসেনের অভিযোগ, গত ৩০ আগস্ট ইছাকুড় গ্রামের মতিন গাজী, আবদুর রশিদ, শফিকুল ইসলাম, আকবর আলী, রুহুল আমিন গাইন, রাজু আহমেদ ও সৈয়দ শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন তাঁদের জমির সীমানার ঘেরাবেড়া ভাঙচুর করেন। এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের অপদস্থ করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁদের খুন ও জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জমির মালিকানা সম্পর্কে মনির হোসেন জানান, পূর্ববর্তী এসএ রেকর্ডীয় মালিকদের মৃত্যুর পর তাঁদের সাত কন্যা ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তির মালিক হন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন ১৯৮৪ সালে দুই দফায় দানপত্র দলিলের মাধ্যমে নিজেদের সম্পত্তি রীনা বালার কাছে হস্তান্তর করেন। পরে রীনা বালা নিজের নামে জমি রেকর্ড করান। তাঁর কাছ থেকে ২০০৫ সালে দুই দফায় মনির হোসেন, তাঁর স্ত্রী ও ভাইয়েরা জমি কেনেন বলে দাবি করেন তিনি।
মনির হোসেন আরও জানান, জমি দখলের চেষ্টা, পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি। জিডি নম্বর ১৩৪৪। এ ছাড়া বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের লোকজন ওই জমিতে অনধিকার প্রবেশ করছেন এবং দোকানপাট ও সীমানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনির হোসেন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জমির মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত বিরোধের নিরপেক্ষ নিষ্পত্তি এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
Reporter Name 




















