রাসেল হোসেন
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহ শহরের কোরাপাড়া এলাকায় শিখা (২২) নামে এক যুবতীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার(৬ অক্টোবর) রাতে কোরাপাড়া গ্রামের মুকুল নামে এক ব্যক্তির ঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শিখা সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের শহিদুল ইসলামের মেয়ে এবং এক সন্তানের জননী। এ ঘটনায় তার স্বজনরা হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে শিখাকে কোরাপাড়া গ্রামের মুকুলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই দিন পর মঙ্গলবার রাতে ওই ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
প্রতিবেশীদের দাবি, শিখা মুকুলের বাড়িতে তার মামা পরিচয়ে অবস্থান করছিলেন। তবে তাদের মধ্যে আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক নেই। ঢাকা থেকে বাসে আসার সময় মুকুলের সঙ্গে শিখার পরিচয় হয় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মুকুল তাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে বিয়ে নিয়ে কোনো বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তারা।
নিহতের মামা তরিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর মুকুল শিখাকে চেনেন না বলে দাবি করেছেন। অথচ তার ঘর থেকেই শিখার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময় মুকুল পুলিশ দেখে পালিয়ে যান বলেও দাবি করেন তিনি। শিখার পরনের পোশাক ছেঁড়া ছিল উল্লেখ করে তরিকুল বলেন, এসব কারণে ঘটনাটি তাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে। শিখা ঢাকায় থাকা অবস্থায় মুকুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতেন বলেও দাবি করেন তিনি। তাদের মোবাইল ফোনের কললিস্ট যাচাই করলে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।
নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম জানান, মেয়ের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল না। মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোনে কথা হতো। পারিবারিক নানা কারণে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, শিখাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মুকুলের বিরুদ্ধে নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের নানা অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রোকনুজ্জামান বলেন, “ঘরের দরজা ভেঙে শিখার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিখার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
Reporter Name 




















